মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আরো একধাপ অগ্রগতি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর

কক্সবাজার জেলার মহেষখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে ১৮.৫ মিটার গভীরতার বন্দর নির্মাণের প্রক্রিয়ায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে আরো একধাপ অগ্রসর হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ‘মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে জাপানের নিপ্পন কোয়ে এবং দেশীয় ডিডিসি নামের একটি যৌথ কোম্পানিকে প্রকল্পটির পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে প্রকল্পটির ডিটেইল ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শুরু হবে। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জাপানের নিপ্পন কোয়েকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রকল্পের যাবতীয় ডিজাইন, প্রাক্কলন প্রস্তুত, টেন্ডার ডকুমেন্টস তৈরিতে এবং অবকাঠামোগত নির্মাণের বিষয়গুলো মনিটরিং এবং তদারকি করা হবে। পরবর্তীতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ থেকে শুরু করে বন্দর চালু করে দেওয়ার বিষয়টি সমন্বয় করবে। বন্দর চালু হওয়ার এক বছর পর্যন্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাপোর্ট দেবে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজের জন্য ব্যয় হবে ২৩৪ কোটি টাকা। গতকাল বুধবার ঢাকার একটি হোটেলে এই সংক্রান্ত দুটি চুক্তিপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রকল্প পরিচালক মো. জাফর আলম এবং জাপানের নিপ্পন কোয়ের প্রতিনিধি নাওকি কুডো প্রকৌশলগত বিষয়ের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রকল্প পরিচালক মো. সাদেকুল ইসলাম এবং অরিয়েন্টাল কনসালটেন্টস গ্লোবাল কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধি শুনজি ইউশিহারা চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল লাইনে সংযুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এসএম আবুল কালাম আজাদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী কাজী শাহরিয়ার হোসেন, জাইকার চীফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইউহো হায়াকাওয়া বাংলাদেশস্থ জাপানের চার্জ দ্যা এ্যাফেয়ার্স হিরোইকি ইমায়া উপস্থিত ছিলেন। মাতারবাড়ি বন্দরের নির্মাণ কার্যক্রম ২০২৬ সালে সম্পন্ন হবে। নির্মাণ সম্পন্ন হলে মাতারবাড়ি বন্দরে ১৮.৫ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়তে পারবে এবং প্রায় ৮ হাজার টিইইউস কন্টেইনার (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কন্টেইনার) নিয়ে জাহাজ ভিড়তে পারবে মাতারবাড়ি বন্দরে। ফলে সামগ্রিক পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে আনুমানিক ১৫ শতাংশ। মাতারবাড়ি বন্দর সড়ক, রেল ও নদীপথ দিয়ে সংযুক্ত থাকবে। বন্দরকে কেন্দ্র করে একটি সুপরিকল্পিত কানেক্টিভিটি গড়ে উঠবে। যার ফলে যে কোনো পণ্য সহজে এবং কম খরচে পৌঁছে যাবে আমদানি-রপ্তানিকারকদের দোরগোড়ায়। এ বন্দর দিয়ে কয়লা লিক্যুয়িড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি), অপরিশোধিত তেল ও তেল পণ্য, সিমেন্ট, ক্লিঙ্কার, সার, খাদ্যশস্য, স্টিলপণ্য এবং স্ক্যাপ লোহা আমদানি সহজতর হবে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ও ধলঘাট এলাকায় বন্দরটি নির্মিত হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ‘মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করবে। মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকার ঋণ ১২ হাজার ৮৯২ কোটি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (নিজস্ব তহবিল) ২ হাজার ২১৩ কোটি এবং বাংলাদেশ সরকারের ২ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মাতারবাড়ি বন্দরের অংশ এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের সড়ক অংশ বাস্তবায়ন করবে।

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে বিদ্যুত্ বিভাগের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে গভীর সমুদ্রবন্দরের সুযোগ তৈরি হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাতারবাড়ি বন্দর দেশের গভীর সমুদ্রবন্দরের অভাব ঘুচিয়ে দিতে যাচ্ছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটিকে ফাস্টট্র্যাক প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করেন। প্রকল্পটি ২০২০ সালের ১০ মার্চ একনেক সভায় অনুমোদিত হয়।