সড়কের দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান করা হবে :অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আগামী ২০ বছর বা ৫০ বছর পর্যন্ত দেশে কী পরিমাণ সড়ক প্রয়োজন এবং এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ কীভাবে হবে সে বিষয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হবে। গতকাল বুধবার অনলাইনে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। সড়কের প্রকল্প বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মঙ্গলবার একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী কিছু নির্দেশনা দিয়ে বলেছিলেন, আপনারা রাস্তাঘাট তৈরিতে বেশি আগ্রহী। কিন্তু রাস্তাগুলোর মান ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সড়কের মেনটেইনের দিকে নজর দিতে বলেছেন। তার বক্তব্য অর্থবহ এবং জোরদার করতে সড়কের একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করতে বলা হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, তিন কিলোমিটার সেভ করতে গিয়ে পুরো রাস্তা ফসলি জমি দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে কি পরিমাণ রাস্তা আছে, আর আগামী ১০, ২০ বা ৫০ বছরে কত রাস্তা করতে হবে এ মাস্টারপ্ল্যানে সেগুলো থাকবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসিমা বেগম বলেন, মাস্টারপ্ল্যান করার জন্য একটি কমিটি করতে বলেছেন অর্থমন্ত্রী। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যেহেতু সমন্বয়ের কাজ করে সেজন্য এটার দায়িত্ব আমাদের ওপর পড়েছে।

ক্রয় কমিটিতে চার প্রস্তাব অনুমোদন :গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদনের জন্য চারটি প্রস্তাব এবং বাতিলের জন্য ১টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। অনুমোদিত চারটি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ৩৩৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল (জিওবি) হতে ব্যয় হবে ২২৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং বিশ্বব্যাংক ও দেশীয় ব্যাংক হতে ১০৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে। সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডেশন’ প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন হয়। এতে ব্যয় হবে ৪৩ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর অধীন ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)-এর জন্য ৩০ হাজার টন ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৮৭ কোটি ৯৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা। এছাড়া বিসিআইসি কর্তৃক কাতার হতে ২৫ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ৬১ কোটি ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-পাকশী-দাশুরিয়া জাতীয় মহাসড়ক এর কুষ্টিয়া শহরাংশ ৪-লেনে উন্নীতকরণসহ অবশিষ্টাংশ যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর-ডব্লিউডি-০৩-এর পূর্তকাজ সম্পাদনে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান জহিরুল লি. এর ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৪১ কোটি ২৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।

এদিকে শরীয়তপুর (মনোহর বাজার)-ইব্রাহিমপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর-ডব্লিউপি-০৩-এর পূর্তকাজ সম্পাদনে ১টিমাত্র দরপত্র জমা পড়ায় ক্রয় কমিটিতে প্রস্তাবটি বাতিল করে নতুনভাবে ক্রয়কার্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।