করোনাকালে তরুণ প্রতিভাবান শিল্পীরা পড়েছেন সবচেয়ে বড় সঙ্কটে। চলচ্চিত্রের নানামুখি সঙ্কটের ভেতরেও তারা ছিলেন নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে নানামুখি ব্যস্ততায়। সেখানে একাধিক নতুন কাজে ফিরবেন তারা সেই প্রস্তুতিই চলছিল। কিন্তু এই দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কটে সবকিছুই স্থবির হয়ে পড়ল। চিত্রনায়ক তাসকিন রহমান বলেন, ‘সময়টা সবার জন্যই খুব কঠিন। সেদিক দিয়ে শুধু যে আমি একাই সঙ্কটে পড়েছি তা নয়। তবে আমরা যারা গত ৪/৫ বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি তাদের জন্য এটা ব্যাডলাক বলতে হবে। কারণ শুধু আমরা দু-চারজন অভিনয়শিল্পী নই। তরুণ নির্মাতা প্রযোজকসহ একটা নতুন জেনারেশনের একঝাঁক সিনেমাপ্রেমীর জন্য সময়টা সঙ্কটের। আমার জানা মতে আমার পরিচিত অনেক কলি-বন্ধু সিনেমায় লগ্নি বা নির্মাণের কথা ভাবছিলেন, সেক্ষেত্রে তারাও পিছপা হয়েছেন। এটা আমাদের অনেকগুলো ভালো ছবি করার সম্ভাবনাকে মেরে ফেলে। নতুনভাবে তাদের সিনেমার কথা ভাবছিলেন। সেখানে এই বৈশ্বিক সঙ্কট আমাদের সিনেমার জেনারেশনের জন্য ছিল খুবই বড় একটি কাল।’
উল্লেখ্য, প্রায় হাফ ডজন নতুন ছবিতে কাস্টিং তাসকিন। সেখানে এই সময়ে ছবিগুলোর প্রায় সব ক’টির কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। দু-একটা ছবি ছাড়া বাকি সব ছবিই সুদিনের প্রত্যাশায় দিন গুনছে। কারণ ছবি শেষ করতে যেমন এই করোনার সময়ে বড় ঝুঁকি তেমনি ছবি শেষ করার পর সিনেমা হল বা অন্যান্য বিপণনের ঝুঁকি তো রয়েই যায়। এদিকে ডিজিটাল প্লাটফর্মেও ক্ষেত্রে বেশকিছু অ্যাপস ডেভলপের কাজ চলছিল। সেগুলোও থমকে আছে।
অন্যদিকে চলচ্চিত্র শিল্পে দারুণ সম্ভাবনাময় তারকা রোশান বলেন, ‘আমি সম্প্রতি আমার ফেসবুকে একটি তালিকা দিয়েছিলাম। তালিকাতে ছিল কী কী ছবি আমার আসছে আগামীতে যেগুলো ২০২০-এ রিলিজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বছর শেষে সব ছবিগুলোই অসমাপ্তই রয়ে গেল। এই যে আমার ৭টি ছবি আটকে থাকলো। এই ৭টি ছবি মানে গোটা টিমেরই একটি ক্ষতি হয়ে গেল। কারণ বাংলাদেশে এমনিতেই চলচ্চিত্র শিল্পকে আমরা সমৃদ্ধ বলতে পারি না। তাই আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। কিভাবে কোনো উপায়ে করোনা সঙ্কটের পর এই সকল প্রডিউসার তাদের লগ্নি ফিরে পায়।’
এ বছরের নানা আলোচনা বা তাসকিন-রোশানের ছবিগুলো ঠিকঠাক রিলিজ পেলে ২০২০ সালটি তাদের হওয়ার কথা ছিল। চলচ্চিত্রে অনেক তারকা নেই। শাকিব নির্ভর ইন্ডাস্ট্রিতে আলাদাভাবে তারা দু’জন খুব গুছিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার প্ল্যান করছিলেন। কিছু বাঁধ সাধলো করোনা। তবে এই সঙ্কট হয়তো তাদের আরো নতুন কিছু শেখালো। যা নতুন বিশ্বে। নতুন চলচ্চিত্রের সময়কালে দারুণভাবে ধরা দেবে।