উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড়ে ধীরগতি

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে উন্নয়নসহযোগী সংস্থাগুলো মোট ৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার ঋণ ছাড় করছে। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ৪ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছাড় হয়েছিল ৭৪ কোটি ৮৭ লাখ ডলার (৬ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা)। দুই মাসের হিসাবে ৪২ শতাংশ বা ২২ কোটি ডলার কম ছাড় হয়েছে। করোনাকালে অর্থবছরের শুরুতে দেশের অর্থনৈতিক বিভিন্ন সূচকে উন্নতি হলেও বড় ধাক্কা লেগেছে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড়ে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ধীরগতি অর্থছাড় কমার বড় কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানিয়েছে, মোট অর্থছাড়ের মধ্যে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ রয়েছে ৫০ কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার। একই সময়ে বাংলাদেশ ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার অনুদানও পেয়েছে। ইআরডির হিসাব অনুযায়ী জুলাই-আগস্টে বেশ কিছু নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতিও মিলেছে। এ সময় বাংলাদেশ ৩৫ কোটি ৪০ লাখ ৬ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি আদায় করেছে। এর মধ্যে ৩২ কোটি ডলার ঋণের প্রতিশ্রুত এবং ৩ কোটি ৪০ ডলার অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উন্নয়নসহযোগী সংস্থাগুলো। এ দিকে নতুন ঋণপ্রাপ্তির মধ্যেও পুরোনো ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। দুই মাসে বাংলাদেশ এ খাতে ২৬ কোটি ৬২ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে ঋণ পরিশোধবাবদ ৭ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার ব্যয় হয়েছে। আর সুদবাবদ দিতে হয়েছে ১৯ কোটি ১৬ লাখ ডলার। উল্লেখ্য, গেল অর্থবছরে বাংলাদেশ ৭৩০ কোটি ডলার বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান পেয়েছি। এ বছরের বাজেটে সরকার ৮৭০ কোটি ডলার বা প্রায় ৭৬ হাজার ৪ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান পাওয়ার আশা করছে।