রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার কর্ণগোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অদূরে স্থাপিত অনুমোদনবিহীন একটি ভাটায় অবাধে ইট পোড়ানো হচ্ছে। ভাটার নির্গত ধোঁয়ায় পার্শ্ববর্তী একটি মাদ্রাসা ও কর্ণগোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬০০ শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। ১৫ বছর আগে ১৬ বিঘা জমি নিয়ে ভাটাটি স্থাপন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসী ইটভাটাটি স্কুল ও মাদ্রাসা থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসলেও প্রতিকার পায়নি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসক, বিএসটিআই ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান থেকেই নিয়মানুযায়ী অনুমোদন নেওয়া হয়নি। সব সময় ক্ষমতাসীন সরকারের স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রভাব দেখিয়ে ইটভাটাটি চালানো হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০০ গজ দূরে ইটভাটাটি স্থাপন করা হয়েছে। এলাকার ফসলি জমিতে এবং গাছের ফলন কমে গেছে। লোকালয় থেকে ভাটাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কর্ণগোপ গ্রামের শমসের আলীর ছেলে মহিউদ্দিনের দেওয়া অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ইটভাটায় প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি ট্রাকে মাটি ও উত্পাদিত ইট আনা-নেওয়া করা হয়। তাতে ধুলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির ছাত্রছাত্রীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে। আর বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট কাদায় চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আশপাশের ঘরবাড়ি, টিনের চালে মরিচা পড়ে যাচ্ছে। আমের মৌসুমে মুকুল ঝরে যায়। অন্য ফলের গাছেও একই অবস্থা।
কর্ণগোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা সুলতানা বলেন, স্কুল চলাকালীন সময় ক্লাস নেওয়া যায় না। নাক মুখ চেপে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসা-যাওয়া করে।
ইটভাটার মালিক সালাহউদ্দিন বাবু ও রহিম ভুঁইয়া বলেন, তারা সরকারি নিয়মানুযায়ী ইটভাটার অনুমোদন নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। তারাবো পৌরসভার মেয়র হাসিনা গাজী বলেন, সরকারি নিয়মানুযায়ী ইটভাটা চলতে হবে। অন্যথায় তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নূসরাত জাহান বলেন, ‘ভাটাটির সরকারি অনুমোদন নেই মর্মে অভিযোগ পেয়েছি। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’