গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আজকে দুর্নীতি কোথায় পৌঁছেছে! সবচেয়ে বড় দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার নিজেই। সরকার জনগণকে প্রতিবাদ জানাতে বের হতে দিচ্ছে না। সেজন্য দেশটা নৈরাজ্যের দিকে যাচ্ছে। সমাজের নানা স্তরে দুর্নীতির বিস্তারে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হওয়ায় সরকার নৈতিক অবস্থান হারিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার হরণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের চেয়ে বড় দুর্নীতি আর কী হতে পারে? স্বাস্থ্যের গাড়িচালক মালেকের দুই তলা, সাত তলা দুইটা বাড়ি, আফজলের ১০টা বাড়ি, বা ১০ কোটি থেকে অনেক বেশি দুর্নীতি আমি মনে করি সরকারের। তিনি বলেন, সরকারের অন্যায় আচরণ দেশকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। সরকারকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই—এখনো সময় আছে, সংশোধন প্রয়োজন।
ধর্ষণের মামলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে আসামি করার প্রসঙ্গে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সে যদি অন্যায় করে থাকে, সেটার বিচার হবে; কিন্তু তাকে হয়রানি করা যাবে না। ছাত্ররাজনীতি একটা প্রসেশন করে, তাদের বের হতে দেবেন না, সেটা তো হয় না। তিনি বলেন, যখন দেশে অনাচার বেড়ে যায়, ব্যথায় মানুষ নীল হয়ে যায়, তখনই ছাত্রসমাজ জাগে, ছাত্রসমাজ সচেতন করে। যখন চূড়ান্তরকম অব্যবস্থাপনা তখনই ছাত্রসমাজ রাস্তায় নামে। সেদিনও যারা রাস্তায় নেমেছে, তারা কি গাড়ি ভেঙেছে? কাউকে মেরেছে? পুলিশ লাঠি দিয়ে দমনের চেষ্টা করছে। এ জাতীয় স্বৈরাচারী নীতি কখনো দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। প্রধানমন্ত্রীকে বলবো—এসব বন্ধ করেন, এটা আপনার স্বার্থে। আজকে প্রয়োজন ন্যায়নীতি, সুষ্ঠু সুশাসন। সুশাসন না হলে হবে না।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে অগণতান্ত্রিক ও অনৈতিক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের আইন বিনা বিচারে হত্যার শামিল। আজকে রাজনীতিবিদদের সহনশীল হতে হবে। ক্রিটিসিজম সহ্য করতে হবে। সরকার নিজে অন্ধ হয়ে গেছে। তারা ভুলভ্রান্তি দেখতে পাচ্ছেন না। ফলে সবার কণ্ঠরোধ করছেন। জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরো বলেন, ভারত হঠাত্ অনৈতিকভাবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিল। পরে পচা পেঁয়াজ পাঠায়। এ কেমন বন্ধুত্ব?