কারফিউ ভেঙে জনতার বিক্ষোভ, দুই পুলিশ গুলিবিদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রে ছয় মাস আগে নিজ বাড়িতে পুলিশের গুলিতে ব্রেওনা টেইলর নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ নারীর মৃত্যুর ঘটনায় কাউকে অভিযুক্ত না করার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের লুইসভিল। বুধবার রাতে কারফিউ অমান্য করে শহরটির বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার মানুষ। এর মধ্য থেকেই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। লুইভিলের পুলিশের প্রধান রবার্ট শ্রোয়েডার জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ দুই কর্মকর্তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

গত ১৩ মার্চ হাসপাতালকর্মী ব্রেওনা টেইলর (২৬) কেন্টাকিতে নিজ বাড়িতে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। নিরস্ত্র টেইলরকে অন্তত ছয়টি গুলি করা হয়েছিল। এ হত্যাকাণ্ডে পুলিশ সদস্যদের অভিযুক্ত করা হবে কি না এ বিষয়ে রায় ঘোষণার আগেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয় লুইসভিলে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বুধবার সেখানে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, আরো কয়েক দিন বিক্ষোভ চলবে।

বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনার পর গ্র্যান্ড জুরি অ্যানি ও-কনেল শুধু পুলিশ কর্মকর্তা ব্রেট হ্যানকিনসনের বিরুদ্ধে সামান্য অপরাধের অভিযোগ এনেছেন। বাকি দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই আনা হয়নি। গ্র্যান্ড জুরির এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্রেওনার পরিবারের আইনজীবী। নিরস্ত্র নারীকে হত্যার পরেও কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ না আনাকে ‘আপত্তিকর ও অপমানজনক’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। তবে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্টাকির অ্যাটর্নি জেনারেলের ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন তিনি। —বিবিসি