এইচএসসি, আলিম, ভোকেশনাল, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা পরীক্ষা শুরু হওয়ার তারিখ ছিল ১ এপ্রিল। শেষ হতো মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। ফলাফল প্রকাশিত হতো জুলাই মাসের মধ্যগগনে। এতদিনে তারা একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট হাতে পেয়ে যেত। শুরু হয়ে যেত মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ক্লাসে ভর্তি প্রক্রিয়া।
কিন্তু বিধি বাম! মহামারি করোনার জন্য পরীক্ষাসংক্রান্ত যাবতীয় কাজ স্থগিত হয়ে যায়। কোভিড ১৯-এর আক্রমণে স্বাভাবিক জীবন ও কাজকর্মে ঘটে ছন্দপতন। শিক্ষাব্যবস্থা, অর্থব্যবস্থা, যোগাযোগব্যবস্থা, ব্যবসায়-বাণিজ্যে আপতিত হয় অপ্রত্যাশিত দুর্যোগ। স্থবির হয়ে পড়ে যাপিত জীবন। অনিশ্চিত গন্তব্যে চলতে থাকে জীবনপ্রবাহ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ছাত্রসমাজ। বিশেষ করে ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা শিকার হয় ভয়াবহ বিপর্যয়ের। সামনে তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যত্। তাদের মাথায় পাহাড়সম বোঝা। এই দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে কোনো অভিভাবকই স্বাভাবিক থাকতে পারছেন না। সমপরিস্থিতির সম্মুখীন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।
যার ছেলেমেয়ে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষাথী—একমাত্র সেই-ই ভুক্তভোগী। কীভাবে তার দিন কাটছে, কীভাবে তার রাত পার হচ্ছে, অন্যরা সেটা উপলব্ধি করতে পারবে না। মানসিক দুশ্চিন্তা-অস্থিরতায় তার শরীরে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট। ১১ লাখ পরীক্ষার্থী, ২২ লাখ অভিভাবক, কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী হতাশা-গ্লানির মধ্যে কালাতিপাত করছে।
একজন ছাত্রের ভবিষ্যত্ জীবনের মূল ভিত্তি এইচএসসি পরীক্ষা। এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলই বলে দেবে তার জীবন কোথায় পৌঁছবে? কে বিজ্ঞানী হবে, কে প্রকৌশলী হবে, কে চিকিত্সক হবে, কে অধ্যাপক হবে, কে বিসিএস ক্যাডার হবে—এইচএসসি ফলাফল সেসবের দিকনির্দেশক। এ অবস্থায় দেশ ও দশের স্বার্থে অবিলম্বে এইচএসসি পরীক্ষা ২০২০ যে কোনো মূল্যে শুরু করে শেষ করা হোক।
মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় পরীক্ষার বিষয় কমিয়ে আনার কথা বলেছিলেন। এটা সময়োপযোগী বক্তব্য। এই বিশ্বময় দুর্যোগে সেটা করা অবশ্যই যৌক্তিক। এইচএসসি পরীক্ষার সব বিষয়েই দুটি করে পত্র। যে কোনো একটি পত্রের পরীক্ষা নিয়ে অন্য পত্রে সে আলোকে নম্বর প্রদান করা যেতে পারে। তবে পরীক্ষা না নিয়ে এসএসসি মোতাবেক ফলাফল প্রকাশ কোনোভাবেই ঠিক হবে না। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছাত্রছাত্রীদের বসিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা কোনো কঠিন কাজ নয়। শুধু এক পত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে মাত্র ১৫ দিনেই পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব। যেখানে হাট-বাজার, অফিস-আদালত, শিল্প-কারখানা, পরিবহন-যোগাযোগ সবকিছু স্বাভাবিক। সেখানে মাত্র ১৫ দিনের জন্য পরীক্ষার কেন্দ্র খুলে পরীক্ষাটা আয়োজন করা কোনো দুরূহ ব্যাপার নয়।
তাই পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের দুশ্চিন্তামুক্ত করতে এইচএসসি পরীক্ষা নিষ্পন্ন করা সময়ের অপরিহার্য দাবি।
বরগুনা