উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী এস পি বালাসুব্রামানিয়াম মারা গেছেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর তার প্লাজমাথেরাপি শুরু করলে ক্রমশ এই শিল্পীর শরীরের অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। প্রখ্যাত এই সংগীতশিল্পীর মৃত্যুতে উপমহাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উত্সবে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে এসেছিলেন সুব্রামানিয়াম। তার কণ্ঠ জাদুতে মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশের দর্শকও।
গত দেড় মাস ধরেই অসুস্থ ছিলেন বর্ষীয়ান এ শিল্পী। সেই থেকে চিকিত্সাধীন ছিলেন হাসপাতালে। গত বুধবার রাতে থেকে তার অবস্থা সঙ্কটজনক হতে শুরু করলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। এর আগে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে নিজের ফেসবুকে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর জানিয়েছিলেন সুব্রামানিয়াম। প্রধানত দক্ষিণী শিল্পী হলেও বিলিউডে প্লেব্যাক করেই তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষ স্পর্শ করেন। বিশেষ করে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খানের কণ্ঠে গান গেয়ে তিনি বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। এর মধ্যে রয়েছে—‘প্যাহেলা প্যাহেলা পেয়ার হ্যায়’, ‘মেরে রাঙমে’, ‘দেখা হ্যায় প্যাহেলি বার’, ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’, ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’, ‘দিল দিওয়ানা বিন সাজনা’, ‘তুমসে মিলনে কি তামান্না হে’, ‘সাথিয়া তুনে ক্যায়া’, ‘বহোত প্যায়ার কারতেহে তুম কো সানাম’ ইত্যাদি।
শুধু বলিউডে প্লেব্যাক নয়, সঙ্গীতের নানা ধারায় কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। ভারতীয় সংগীত জগতে এই শিল্পী রেখেছেন অপরিসীম অবদান। সব বয়সের শ্রোতাদের কাছেই প্রিয় গায়ক ছিলেন তিনি।
ভারতীয় চলচ্চিত্র অন্যতম খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব হিসেবেই এস পি বালা সুব্রামনিয়ামকে মনে রাখবে ইতিহাস। ১৬টি ভাষায় প্রায় ৪০ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন তিনি। এ অনন্য কৃতিত্ব গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পায়। বিখ্যাত সুরকার এ আর রহমান, ইলায়া রাজা থেকে শুরু করে বিখ্যাত ভারতীয় সঙ্গীত পরিচালকের সুরে তার গান শুনেছেন উপমহাদেশের শ্রোতারা। সম্মানিত হয়েছেন পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ সম্মানেও। গান গাওয়ার পাশাপাশি অভিনেতা ও ছবি প্রযোজক হিসেবেও নিজের দক্ষতা দেখিয়েছিলেন এস পি বালা সুব্রামনিয়াম। গান গাওয়ার পাশাপাশি বেশকিছু সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন তিনি। সেরা প্লেব্যাক সংগীতশিল্পী হিসেবে তিনি ছয় বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া নন্দী পুরস্কার জয় করেন ২৫ বার। ভারত সরকার তাকে সম্মানজনক পদ্মশ্রী (২০০১) ও পদ্মভূষণ (২০১১) উপাধিতে ভূষিত করেছে।