মেহেন্দিগঞ্জে বৃদ্ধাকে নির্যাতন ও চুল কর্তনের অভিযোগে মামলা করায় হুমকি

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় এক বৃদ্ধাকে নির্যাতন করে চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করায় আসামিরা ঐ বৃদ্ধা ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধা সফুরা বেগম (৬৫)।

সংবাদ সম্মেলনে বৃদ্ধা জানান, তার বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জের কাজীরহাট থানার আন্ধারমানিক গ্রামে। একই এলাকার সেকান্দার আলী হাওলাদারের কাছ থেকে ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে ৪০ হাজার টাকায় ১৮ শতাংশ জমি কেনেন তারা। এরপর ঐ জমিতে তারা ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি সেকান্দার আলী ঐ জমি বাবদ আরো ২ লাখ টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে গত ১৫ জুলাই বৃদ্ধা সফুরার ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। তার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। বৃদ্ধার চিকিত্সা শেষে তার ছেলে মো. আরিফুর রহমান কাজীরহাট থানায় মামলা দায়ের করলে আসামিরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ঐ মামলার অন্যতম আসামি ফারুক সরদার বর্তমানে জেলহাজতে আছেন। বাকি আসামিরা বৃদ্ধা সফুরা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা ও গুমের হুমকি দিয়ে আসছেন। আসামিদের অব্যাহত হুমকির কারণে ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে ছেলেমেয়েকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বৃদ্ধা সফুরা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে মায়ের চুল কেটে নেওয়াসহ নির্যাতনকারীদের কঠোর বিচার চেয়েছেন সফুরা বেগমের মেয়ে সোনিয়া বেগম। তিনি নিজ বাড়িতে শান্তিতে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির জন্যও প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

কাজীরহাট থানার ওসি মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, বৃদ্ধা সফুরা বেগমকে মারধরের ঘটনায় তার ছেলে মামলা দায়ের করলে আসামিদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে ফারুক সরদারের মাকে মারধরের অভিযোগ এনে ফারুকের স্ত্রী রাবেয়া বেগম গত ১১ আগস্ট সফুরা বেগম ও তার ছেলেমেয়েকে আসামি করে পালটা মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলায় সফুরা বেগমের ছেলে ছাড়া সকলেই জামিনে রয়েছেন। ওসি আরো জানান, জমিজমা নিয়ে পালটাপালটি মামলা দায়েরকারীরা নিকটাত্মীয়।

জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছিল। জামিনে বেড়িয়ে এসে তারা ফের ঐ পরিবারকে কোনো ধরনের নির্যাতন করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।