সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের অস্তিত্ব মিশে রয়েছে পুরান ঢাকার অলিগলিতে। বিউটি বোর্ডিংয়ে বসে তার প্রথম জীবনের অসংখ্য উপন্যাস-গল্প লিখেছেন তিনি। দীর্ঘ সময় বসবাস করেছেন পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে। তার পুরান বাসস্থানের পাশেই গতকাল উদ্বোধন করা হয়েছে সৈয়দ শামসুল হক হল। মৈত্রী থিয়েটার ও শৌখিন থিয়েটারের যৌথ তত্ত্বাবধানে যাত্রা শুরু করল এ স্টুডিও থিয়েটার। চাইল্ড হেভেন স্কুল ভবনেই স্থাপন করা হয়েছে এ মঞ্চ। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পীঠস্থান পুরান ঢাকায় মঞ্চ নেই বললেই চলে। এই মঞ্চটি সেখানকার নাট্য রসিকদের বিনোদনের কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলেই আশা করছেন সংস্কৃতিকর্মীরা।
এদিকে, সৈয়দ শামসুল হকের প্রয়াণ দিবসকে সামনে রেখে গতকাল শুক্রবার থেকে এই স্টুডিও থিয়েটারে শুরু হয়েছে দুই দিনের নাট্যোত্সব। গতকাল সৈয়দ শামসুল হক হলের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য সংস্কৃতিজন আসাদুজ্জামান নূর। অসুস্থতার জন্য অনুপস্থিত আনোয়ারা সৈয়দ হকের শুভেচ্ছা বাণী অনুষ্ঠানে পাঠ করা হয়। তিনি অনলাইনে যুক্ত হয়ে উদ্বোধনী ভাষণ দেন। উদ্বোধনী পর্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি ঝুনা চৌধুরী, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ গিয়াস, তরুণ কবি ও প্রাবন্ধিক পিয়াস মজিদ, লায়ন চিত্তরঞ্জন দাস, আদি ঢাকা সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মানস বোস বাবুরাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শৌখিন থিয়েটারের প্রধান নির্বাহী হামিদুর রহমান পাপ্পু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাইল্ড হেভেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মো. আহসান সিদ্দিকী। সঞ্চালনা করেন মৈত্রী থিয়েটারের দলপ্রধান নিয়াজ আহমেদ। আসাদুজ্জামান নূর বলেন, এটা নিঃসন্দেহে খুশির সংবাদ যে পুরান ঢাকায় নাট্য সংগঠনের উদ্যোগে স্টুডিও থিয়েটার প্রতিষ্ঠা পেল। সৈয়দ শামসুল হকের নামে তার নামকরণ করায় তা ঐতিহাসিক গুরুত্ব পেয়েছে। কেননা মঞ্চটি তার আদি নিবাসের পাশেই অবস্থিত। করোনাকাল কেটে যাক, নিয়মিত নাটক প্রদর্শনী আর দর্শক কলাকুশলীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠুক নাট্যাঙ্গন—এটাই প্রত্যাশা।
আনোয়ারা সৈয়দ হক বলেন, সৈয়দ শামসুল হকের নামে হলটির নামকরণ আমাদের জন্য বিশেষ আনন্দের। আমাদের পরিবারের প্রত্যাশা ছোট আকারে হলেও প্রতি সন্ধ্যায় এই মঞ্চে নাটক হোক, দর্শকে ভর্তি থাকুক হল, মানুষের মননের জগতে ফুটে উঠুক শুভ্র রজনীগন্ধা।
আলোচনা পর্ব শেষে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এরপরে ছিল নাটক প্রদর্শনী। গতকাল উত্সবের প্রথম দিন মঞ্চস্থ হয় শৌখিন থিয়েটারের প্রযোজনা মনোজ মিত্রের নাটক ‘প্রভাত ফিরে এসো’। নির্দেশনা দেন হামিদুর রহমান পাপ্পু। এতে বিভিন্ন চরিত্রে রূপদান করেন হামিদুর রহমান পাপ্পু, সূচনা, মো. আলমগীর, নিয়াজ আহমেদ ও আজমীরা মীরা।
আজ শনিবার পরপর দুটি নাটক মঞ্চস্থ হবে। প্রথমে মৈত্রী থিয়েটার মঞ্চস্থ করবে রামানাথ রায়ের গল্প অবলম্বনে ‘চা অথবা কফি’। নির্দেশনা দিয়েছেন নিয়াজ আহমেদ। এরপর মঞ্চস্থ হবে শব্দ নাট্য চর্চা কেন্দ্রের একক নাটক ‘বীরাঙ্গনার বয়ান’। রচনা করেছেন রওশন জান্নাত রুশনী। নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি নিজেই। নির্দেশনা দিয়েছেন দেবাশীষ ঘোষ।