কামারখন্দে কথিত চোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পাশবিক নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে মধ্যযুগীয় কায়দায় কথিত এক চোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পাশবিক নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার বিকালে উপজেলার জামতৈল কলেজপাড়া গ্রামে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, ছাগল চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তির হাত-পা দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে তার হাতের নখগুলো প্লাস দিয়ে তুলে ফেলছে স্থানীয় ব্যবসায়ী পোনা মাছ উত্পাদনকারী হ্যাপি। এ সময় নির্যাতিত ব্যক্তি যন্ত্রণায় চিত্কার করতে থাকেন। নির্যাতনকারী হ্যাপি ঐ কথিত ঐ চোরকে মারতে থাকে আর বলে, ‘ওর আঙ্গুল দুইটা ভাঙছি। অন্য চোরদের নাম না বলা পর্যন্ত ওর আঙ্গুল     সবগুলো ভাঙব, তার আগে ছাড়ব না। আমি ওকে মেরে ফেলব না, ওর হাত-পা ভাঙব তারপর ছেড়ে দেব।’

এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অজ্ঞাতনামা ঐ ব্যক্তিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেদম মারপিট করে হ্যাপি ও তার ছেলে। নির্যাতন করতে বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও বাপ-ছেলে কারো কথা শোনেনি। স্থানীয়রা কথিত ঐ চোরকে না মেরে পুলিশে সোপর্দ করার কথা বললেও তারা তাকে মারতেই থাকে। প্রায় ২ ঘণ্টা নির্যাতনের পর ঐ কথিত চোরকে ছেড়ে দেয় হ্যাপি। এ ব্যাপারে হ্যাপি বলে, ‘আগে আমার একটি ছাগল হারিয়েছে। আবার আরেকটি ছাগল নিয়ে যাওয়ার সময় চোরকে ছাগলসহ হাতেনাতে ধরে দুই-একটা চড়-থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দেই। এ ব্যাপারে থানা থেকে পুলিশ এসেছিল। আমি বাড়িতে ছিলাম না, তবে মোবাইল ফোনে থানার লোকদের সঙ্গে কথা হয়েছে।’ এ ব্যাপারে কামারখন্দ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। নির্যাতিত ভিকটিম ও নির্যাতনকারী কাউকে পাওয়া যায়নি। তারপরও আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।