নিকলী উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়ি ভাঙচুর মামলা

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে চেয়ারম্যানের নির্দেশেই ভাঙা হয় সরকারি গাড়ি

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে আলোচিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সরকারি গাড়ি ভাঙচুর মামলায় আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। চার্জশিটে নিকলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কারার সাইফুল ইসলাম ও তার ভাতিজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়ার আহমেদ তুলিপকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসাতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান মো. রুহুল কুদ্দুস ভূইয়া জনি তার ভাগ্নে ও একজন ব্যাক্তিগত চালককে দিয়ে গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর দাখিল করা চার্জশিটে নয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিকলী থানার এসআই মো. শফিকুল ইসলাম।

চার্জশিট থেকে প্রধান দুই আসামি আওয়ামী লীগ নেতা কারার সাইফুল ইসলাম ও কারার শাহরিয়ার আহমেদ তুলিপকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে নিজেই গাড়ি ভেঙে প্রতিপক্ষকের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অভিযুক্ত করা হয়নি। পুলিশ বলছে, বিষয়টি আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।

চার্জশিটে উল্লেখ, বাদি প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তুষার ও লিটন নামে দুইজনকে দিয়ে সরকারি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করেছে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

চার্জশিটে যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা হলেন- নিকলী খালিশাহাটি গ্রামের মো. জমির আলীর ছেলে মো. কামরুল ইসলাম (৩২), ধুপাহাটি গ্রামের কারার শহীদের ছেলে কারার পলক (২৬), দামপাড়া গ্রামের মো. ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. লিটন মিয়া (৩৩), বড়কান্দা গ্রামের হাজী সাহাবুদ্দিনের ছেলে তৌহিদুজ্জামান তুষার (২৭), সাইটধার রামেশ্বরহাটি গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে মো. নাজিউর রহমান সোহেল (৩২), নাগারছিহাটি গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে সুমন (৩৬), মোহরকোনা গ্রামের হেলু মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়া (৪০), তেলিহাটি গ্রামের মো. ইব্রাহিমের ছেলে মো. কামাল (৩৪) এবং পূর্বগ্রাম জঙ্গিলহাটির আব্দুল ছালেকের ছেলে আরিফ মিয়া (২৩)।

প্রসঙ্গত, মালিপদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে নিকলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান মো. রুহুল কুদ্দুস ভূঁঞা জনি তার এক সময়কার নির্বাচনী কর্মী কামরুল ইসলামের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা উৎকোচের অভিযোগে দুইজনের সম্পর্কের অবনতি গয়। গত ২৬ জুলাই নিকলী উপজেলা পরিষদ হলরুমের সামনে চেয়ারম্যানের গাড়ি থামিয়ে তার কাছে টাকা ফেরত চান কামরুল। এ নিয়ে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে তর্কাতর্কি ও ধাক্কাধাক্কি হয়।

এ দিন বিকেলে উপজেলা চেয়ারম্যান বাদী হয়ে কামরুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  কারার সাইফুল ইসলাম ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়ার আহমেদ তুলিপসহ ৯ জনকে আসামি করে গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে নিকলী থানায় একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে কারার সাইফুল ইসলামের নির্দেশে আসামিরা তার গাড়িতে হামলা করেন।

অপরদিকে একই দিনে কামরুল বাদি হয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেয়ার অভিযোগে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস ভূইয়া জনি, তার সহযোগী নিয়াদ হাসান রকি ও শফিকুল ইসলাম ওরফে শকুলকে আসামি করে নিকলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

চার্জশিট থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান মো. রুহুল কুদ্দুস ভূইয়া জনিকে বাদ দিয়ে অপর দুই আসামি নিয়াদ হাসান রকি ও শফিকুল ইসলাম ওরফে শকুলকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে চেয়ারম্যানের কথা বলে রকি ও শকুল কামরুলের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়। 

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে, নিকলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কারার সাইফুল ইসলাম বলেন,  পুলিশের তদন্তে সত্য বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু চেয়ারম্যানকে চার্জশিটে কেন আসামি করা হয়নি সেটি রহস্যজনক। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

গাড়ি ভাঙার মামলার নিজের সম্পৃত্ততা থাকলেও কেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে চার্জশিটে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুল আলম সিদ্দিকী বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তের সময় যা পেয়েছেন সেটি চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বাদিকে গাড়ি ভাঙচুরের নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি বিষয়টি আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।

ইত্তেফাক/এসি