মানুষ
১. নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
শীতের রাতে মসজিদের বারান্দায় শুয়ে ছিল এক অশীতিপর বৃদ্ধ। মসজিদের ইমাম সাহেব বাইরে এসে দেখেন লোকটি থরথর করে কাঁপছে। তিনি অসহায় লোকটিকে মসজিদের ভিতরে নিয়ে গেলেন এবং কম্বল দিলেন। লোকটির শীত কমলো এবং তিনি ইমাম সাহেবকে ধন্যবাদ জানালেন।
ক. পান্থ কয়দিন খায়নি? ১
খ. মোল্লা সাহেব ভুখারি মুসাফিরকে সোজা পথ দেখতে বললেন কেন? ২
গ. উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের সাথে ‘মানুষ’ কবিতার মোল্লা সাহেবের বৈসাদৃশ্য দেখাও। ৩
ঘ. উদ্দীপকের অশীতিপর বৃদ্ধ মানুষের প্রাপ্য সম্মান পেলেও ‘মানুষ’ কবিতার ভুখারি তা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল-বিশ্লেষণ কর। ৪
ক. পান্থ সাত দিন খায়নি।
খ. মোল্লা সাহেব ভুখারি মুসাফিরকে খাবার দেবে না বলে সোজা পথ দেখতে বললেন।
ভুখারি মুসাফির সাত দিন ধরে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। অথচ এক মুঠো অন্ন দিয়েও কেউ তাকে সাহায্য করছে না। ভুখারি মুসাফির মোল্লা সাহেবের কাছে খাবার চাইলে, মোল্লা তাকে বিরক্তি স্বরে নামাজ পড়ে কিনা জিজ্ঞাসা করে। এর উত্তরে ভুখারি মুসাফির নামাজ পড়েন না বলে জানান। নামাজ পড়ে না শুনে মোল্লা সাহেব তাকে খাবার না দিয়ে সোজা পথ দেখতে বলেন।
গ. উদ্দীপকের ইমাম সাহেব মানবিক আচরণ প্রদর্শন করলেও ‘মানুষ’ কবিতার মোল্লা সাহেব তা না করায় তাদের মাঝে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। ধর্মসেবকগণ মানুষের কাছে পরম শ্রদ্ধেয়। তাদের স্নেহ স্পর্শের আশায় অসহায় মানুষ সর্বদা ব্যাকুল থাকে। উদ্দীপকের ইমাম সাহেব তার কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করলেও ‘মানুষ’ কবিতার মোল্লা সাহেবকে তা করতে দেখা যায় না। উদ্দীপকের ইমাম সাহেব তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত আচরণই প্রদর্শন করেছেন মসজিদের বারান্দায় শুয়ে থাকা অশীতিপর বৃদ্ধের সাথে। শীতের রাতে থরথর করে কাঁপছিল বয়স্ক লোকটি। ইমাম সাহেব তাকে ভিতরে নিয়ে এসে শীত নিবারণের জন্য কম্বল দিয়ে সহায়তা করলেন। এরূপ আচরণই একজন ধর্মসেবকের কাছ থেকে সকলের কাঙ্ক্ষিত। ‘মানুষ’ কবিতার মোল্লা সাহেব মসজিদের দুয়ারে আগত ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি ঐ আর্ত ব্যক্তির সাথে অত্যন্ত দুর্ব্যবহারও করেছেন। এমনকি তাকে গো-ভাগাড়ে গিয়ে মরতে বলা এবং ‘শালা’ সম্বোধনের মতো তিরস্কারও করেছেন তিনি। কিন্তু মসজিদের মোল্লা সাহেবের এমন ব্যবহার শোভনীয় নয়। একজন ধর্মসেবক হিসেবে তার অসহায় ও ক্ষুধার্ত মানুষটির প্রতি সদয় হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠুর আচরণ প্রদর্শন করেছেন। ‘মানুষ’ কবিতার মোল্লা সাহেব এরূপ আচরণ করাতেই উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের সাথে তার বৈসাদৃশ্য ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকের অশীতিপর বৃদ্ধ মানুষের প্রাপ্য সম্মান ইমাম সাহেবের কাছ থেকে পেলেও ‘মানুষ’ কবিতার ভুখারি তা না পেয়ে বরং অপমানিত হয়েছেন। পৃথিবীতে কোনো কিছুই মানুষের চেয়ে বড় নয়। ধর্মও সে কথা সমর্থন করে। কিন্তু ধর্মসেবক হয়েও ‘মানুষ’ কবিতার মোল্লা সাহেব তা মনে রাখেননি। তবে উদ্দীপকের ইমাম সাহেব এ সত্যকে ধারণ করেছেন। তাই ‘মানুষ’ কবিতার ভুখারি মানুষ হিসেবে তার প্রাপ্য সম্মান না পেলেও উদ্দীপকের বৃদ্ধ তা পেয়েছেন। উদ্দীপকের ইমাম সাহেব মানুষের শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী হয়ে মানুষকে সম্মান করেছেন। শীতের রাতে কষ্ট পাওয়া এক অশীতিপর বৃদ্ধকে সহায়তা করে তিনি প্রকৃতপক্ষে মানবতারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ‘মানুষ’ কবিতার ভুখারি মুসাফির সাত দিন ধরে খেতে না পেয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণায় মন্দির-মসজিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু কোথাও তিনি খাবার পাননি। মন্দিরের পুরোহিত এবং মসজিদের মোল্লা সাহেব ধর্মসেবক হওয়া সত্ত্বেও অসহায় ব্যক্তিকে সাহায্য করা থেকে বিরত থেকেছেন। ক্ষুধার্ত ব্যক্তিটি তাদের দুয়ারে সাহায্যের প্রত্যাশা নিয়ে গেলেও তারা তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। পুরোহিত এবং মোল্লা সাহেবের এরূপ ব্যবহার মানুষের অপমানেরই দৃষ্টান্ত। সুতরাং সার্বিক আলোচনা শেষে দেখা যায়, উদ্দীপকের অশীতিপর বৃদ্ধ লোকটি মানুষের প্রাপ্য সম্মান পেলেও ‘মানুষ’ কবিতার ভুখারি তা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।