করোনাকালে দীর্ঘদিন শুটিং খরার পর চলচ্চিত্রের দুই জনপ্রিয় তারকার নিউ লুক নিয়ে ভক্তকূল নড়েচড়ে বসেছেন। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে এখন অবধি এই দুই তারকাই দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের পরীক্ষিত হিসেবে প্রমাণ করেছেন। হিট ফ্লপ বিচারে চলচ্চিত্র প্রযোজকদের কাছেও শাকিব খানের পরই যে চাহিদার নামটি শোনা যায় তিনি আরিফিন শুভ।
তবে এবারে দেশের প্রথম কোনো চলচ্চিত্র তারকা হিসেবে সিক্সপ্যাক লুকে ফেরাটাও বেশ নাটকীয়ভাবেই উপস্থাপন করলেন। আরিফিন শুভ বলেন, ‘এর আগে কোনো শীর্ষ তারকা কেন এই কাজটি করেননি তার একটা ব্যাখ্যা আমার কাছে আছে। তা হলো বাঙালির খাদ্যাভ্যাস। এত সুস্বাদু হাই ক্যালোরি ফুড হ্যাভিট বাঙালি ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনোখানেই নেই। আমিও এর ভেতর দিয়েই বড় হয়েছি। তাই আমি যখন মাত্র গোনা গোনা কিছু দিনে নিজের আমূল পরিবর্তনের কাজটি করি। তখন বুঝতে পারি এ কাজটি করতে কত যন্ত্রণা।’
অন্যদিকে নবাব এলএলবি ছবিতে একেবারে নতুন লুকে না এলেও বাইক শুট থেকে শুরু করে পর্দায় শাকিবের উপস্থিতি সত্যিকার অর্থেই ভিন্নতা গুনেছে অনেকেই। শাকিব খান বলেন, ‘দেখুন, করোনায় একটা উপকার হয়েছে, তা হলো আত্মোপলব্ধি। কারণ এই সময়টায় নিজেকে নিয়ে ভাবতে পেরেছি এবং আমার ধারণা করোনা সঙ্কট পেরিয়ে গেলে গোটা পৃথিবীই আরো অনেক গতিতে ছোটা শুরু করবে। তাই সেই হিসেব করেই আমাদের পরিশ্রমটাও বেশি করতে হবে। আমাদের ছোট্ট একটা ইন্ডাস্ট্রি। কিন্তু আমাদের কালচারটা কিন্তু সমৃদ্ধ। তাই বিশ্ব বাঙালিকে একসঙ্গে করে আমাদের দেশীয় চলচ্চিত্র নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।’
অন্যদিকে আরিফিন শুভ ঠিক একইভাবে বলেন, ‘আমাদের এই ছোট্ট ইন্ডাস্ট্রিতে ঈর্ষা, দ্বন্দ্বের কথা ভেবে লাভ নেই। জীবনটা যে কত তুচ্ছ, কত ছোট তা তো আমরা এই করোনার সময়টাতে বুঝতে পারলাম। তাই সবাইকে একসঙ্গে নিয়েই এগুতে হবে। আর আমি সিক্সপ্যাক করলাম বলে এগিয়ে থাকলাম, অন্যরা পিছিয়ে গেল—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। আর আমি আজীবন এই বডিশেপেই যে ছবি করবো তাও কিন্তু না। হয়তো মিশন এক্সট্রিমের পরের ছবিতেই আমাকে চরিত্র অনুযায়ী লুক পরিবর্তন করতেও হতে পারে। আসল কথা দর্শকদের ফেরাতে হবে আমাদের।’
শাকিব খানের নবাব এলএলবি ছাড়াও একটানা ৬টি ছবির কাজ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে একটানা একাধিক ছবি হাতে না নিলেও পাইপলাইনে আছে বেশকিছু ছবি। তবে চলচ্চিত্রে দর্শক ফেরাতে দুই শীর্ষ তারকার এই ভাবনাগুলো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন অনেকেই।