অণুগল্প

হো হো!

 

বয়স তখন সাড়ে তিন বছর। সে সময় বাবা-মা লিলিকে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন আমস্টারডাম। ঝকঝকে সকালের রোদ আর মন মাতানো নীল আকাশ লিলির মনে গাঁথা হয়ে গেল চিরকালের জন্য। আমস্টারডাম শহরের ভেতর দিয়ে কাটা খালের পরিষ্কার নীল পানি কেটে ছোট্ট জাহাজটা এগুচ্ছিল। নানা দেশের নানা রকমের মানুষ একটু পরপর হো হো করে উঠছিল। হাসছিল।

লিলি এরপরও কেঁদেছিল খুব। দূরের মেঘগুলো ঢেকে রেখেছিল যে প্রসাদের ছাদ, সেখানে যাওয়া হয়নি বলে ওর মন ভরেনি। টিকিটের দাম ইউরোতে, এই যুক্তি দেখিয়ে মা ওকে টানতে টানতে জাহাজ থেকে নামিয়েছিল, চড়ও মেরেছিল দুটো, একটা পিঠে, একটা গালে।

এরপর থেকে লিলি ঘুমালেই জাহাজটা চলতে শুরু করে। অসাধারণ আনন্দে সেই সাড়ে তিন বছরের ছোট্ট লিলি লাফিয়ে ওঠে শরীরে। তেষট্টি বছর কেটে গেল এভাবেই!

ঝকঝকে রোদ, নীল আকাশের সঙ্গে চামড়ায় খেলে যায় নির্মল বাতাসের ঢেউ। দূরের মেঘগুলো সরে যেতে থাকে, প্রাচীন প্রাসাদের ছাদ একটু একটু করে দৃশ্যমান হয়...নিশ্চয়ই সেই প্রাসাদের সামনে বাঁধা ঘাট আছে। জাহাজটা নিশ্চয়ই সেই ঘাটে ভিড়বে কোনোদিন।

কানে ভেসে আসে হো হো! হো হো! হো হো!

 

 

অলংকরণ :অবিনাশ আচার্য