কাউখালীর সন্ধ্যা ও গাবখান নদীর মোহনায় হঠাত্ করে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে পিরোজপুর-স্বরূপকাঠি সড়কের আমড়াজুড়ি-আশোয়া ফেরিঘাট ও দুই পাড়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিলীনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ভাঙনের বিস্তার আরো বাড়ছে বলে এলাকাবাসী জানান।
আমড়াজুড়ি ফেরিঘাটের সুপারভাইজার মো. শাহ আলম জানান, গত এক যুগ ধরে কাউখালীর সন্ধ্যা ও গাবখান নদীর মোহনায় ভাঙন চলছে। হঠাত্ করে এ এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। এতে ফেরিঘাটটি বিলীনের মুখে পড়েছে। গত দুই বছরে ঘাট দুটি অন্তত ২০ দফা স্থানান্তর করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সন্ধ্যা ও গাবখান নদীর মোহনায় ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমানে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েই চলছে। বুধবার বিকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নের পূর্ব আমড়াজুড়ি, আশোয়া গ্রাম ও সোনাকুর ফেরিঘাট এলাকা থেকে ভাঙনের এই অবস্থা। ইতিমধ্যে বিলীন হয়েছে আমড়াজুড়ি সার্কেল অফিস (রাজস্ব), আশোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমড়াজুড়ি বাজার। গন্ধর্ব জানকীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকার আশপাশ জুড়ে চলতি বর্ষা আর জোয়ারের প্লাবনে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
আমড়াজুড়ি ফেরিঘাট বাজারের ব্যবসায়ী আনোয়ার গাজী জানান, আমড়াজুড়ি মূলবাজার এখন সন্ধ্যা নদীর মধ্যখানে। ইতিমধ্যে আমড়াজুড়ি ফেরিঘাট, বাজারের অন্তত ২৫টি দোকানপাট ও কয়েক শ বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। গত এক মাসে আমড়াজুড়ি ফেরিঘাটের ছয়টি দোকান নদীতে ভেঙে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে নদী শাসনের উদ্যোগ না নিলে ঘাট, বাজার ও বাড়িঘর রক্ষা করা যাবে না। ফেরিঘাট, মসজিদ ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। আমড়াজুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সেখ সামসুদ্দোহা চাঁন বলেন, ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যুগ যুগ ধরে সন্ধ্যা নদী ভাঙছে। প্রতিদিন এ জনপদের মাটি, স্থাপনা ও গাছগাছালি সন্ধ্যার গর্ভে চলে যাচ্ছে। ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পিরোজপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাশ বলেন, আমড়াজুড়ি এলাকার নদীভাঙন রোধে স্থায়ী প্রতিরোধ করার জন্য ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজল (ডিপিপি) তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।