রামগড়ে ইউপিডিএফ দ্বারা অপহূত ফেনীর দুই ব্যক্তি ছাড়া পেলেন ৩৩ দিন পর

খাগড়াছড়ির  রামগড়ে  ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীদের দ্বারা অপহূত ফেনীর জুয়েল ট্রেডার্সের দুই কর্মচারী ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে  দীর্ঘ ৩৩ দিন পর গত শুক্রবার মুক্তি পেয়েছেন। এরা হলেন, জুয়েল ট্রেডার্সের বিক্রয় প্রতিনিধি ও চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর ওবায়দুল হকের ছেলে মঞ্জুরুল আলম (৩৫) ও কর্মচারী নোয়াখালীর সুধারামের মো. রাজু (২৮)। ২৩ আগস্ট  ফেনী থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়ার পথে রামগড়- জালিয়াপাড়া সড়কের যৌথখামার এলাকায় জুয়েল ট্রেডার্সের প্লাস্টিক ডোর (দরজা) বাহি পিকআপ গাড়ি আটকে সন্ত্রাসীরা ঐ দুই জনকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়।         খাগড়াছড়ি সদরের এসএস ট্রেডার্স নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের  অর্ডারের ৩০টি প্লাস্টিক ডোর ডেলিভারি দিতে তারা সেখানে যাচ্ছিলেন। অপহরণের এ ঘটনায় চালক মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ২৪ আগস্ট রামগড় থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তাদের উদ্ধারে ব্যর্থ হলে অপহূতদের স্বজনরা ভিন্ন কৌশলে অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। অপহরণকারীরা দুই জনকে ছেড়ে দিতে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবি জানায়। অপহূত রাজুর স্বজন নোয়াখালীর মাইজদী স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতা ও ঠিকাদার কামাল উদ্দিন অপহরণকারীদের সঙ্গে গত এক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ সমন্বয় করেন। জুয়েল ট্রেডার্সের মালিক মেহেদী হাসান জুয়েল তার অপহূত  দুই কর্মচারীকে উদ্ধারে মুক্তিপণের ৫ লাখ টাকা দিতে রাজি হলে বৃহস্পতিবার অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন অপহূতদের স্বজনরা।  কামাল উদ্দিন জানান, অপহরণকারীদের তরফে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর শুক্রবার সকালে তিনি এক সঙ্গীসহ মুক্তিপণের টাকা নিয়ে হাজির হন গুইমারার বড়পিলাকের ছনখোলার গরু বাজার নামক স্থানে। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার পর ইউপিডিএফের দুই কর্মী মোটরসাইকেলে করে তাকে নিয়ে যায়  অচেনা এক পাহাড়ি বাড়িতে। সেখানে মুক্তিপণের ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করে তাত্ক্ষণিক ম্যাসেজটি মোবাইল ফোনে তাদের লিডারকে জানানো হয়। পরে ঐ লিডার পুনরায় কামালকে ফোন করে জানান, অপহূতদের মানিকছড়ি গিরি মৈত্রী কলেজ এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

অপহূত মঞ্জুরুল আলম মুক্তি পেয়ে ফেনীতে ফেরার পর  মোবাইল ফোনে এ প্রতিনিধিকে জানান, অপহরণের পর দীর্ঘ ৩৩ দিন যাবত্ দুই জনের হাত-পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে ঘুরিয়েছে তারা। মাইলের পর মাইল হাঁটিয়েছে। রাতে তাদের পাহাড়ের জুমঘরে রাখা হতো। সকালে এবং বিকালে দুইবেলা খাবার দেওয়া হতো। তিনি জানান, অপহরণকারীরা ইউপিডিএফের প্রসীতখীসা গ্রুপের সদস্য। রামগড় থানার সেকেন্ড অফিসার ও অপহরণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুজিবুর রহমান বলেন, মুক্তিপণ দিয়ে অপহূতরা ছাড়া পেয়েছেন বলে জেনেছি। তবে তারা থানায় আসেননি।

মঞ্জুরুল আলম ও রাজু