এমডির একক সিদ্ধান্তে চার প্রকৌশলীর পদোন্নতি নিয়ে তোলপাড়

রাজশাহী পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষের (ওয়াসা) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডির) একক সিদ্ধান্তে চার প্রকৌশলীর পদোন্নতির খবরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে রাজশাহী ওয়াসার এমডি সুলতান আবদুল হামিদ দাবি করেছেন, বিষয়টি ওয়াসার অভ্যন্তরীণ বিষয়। এই বিষয়টি সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

জানা গেছে, গত বছর ১৮ ডিসেম্বর চার সহকারী প্রকৌশলীকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেন। বোর্ড সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছাড়াই এ পদোন্নতি দেওয়া হয়। পদোন্নতির আদেশ পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উচ্চ পদে যোগদান করেন। পদোন্নতির দিন থেকে তারা বর্ধিত বেতন স্কেল ও অন্য সুযোগ-সুবিধা পেয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চার কর্মকর্তার পদোন্নতি স্থগিত করায় চার মাস পর তারা পুনরায় আগের পদে ফিরতে বাধ্য হন।

এ সংক্রান্ত নথিপত্র বিশ্লেষণে জানা যায়, গত বছর ১৮ ডিসেম্বর রাজশাহী ওয়াসার বোর্ডের সিদ্ধান্ত ছাড়াই চার প্রকৌশল কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী করা হলেও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পারভেজ মামুদকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়।

সূত্র মতে, বোর্ড সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছাড়াই চার প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে ১২ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জেসমিন পারভিন স্বাক্ষরিত একপত্রে রাজশাহী ওয়াসার এমডির কাছে পাঁচটি বিষয়ের ব্যাখ্যা ও নথিপত্র তলব করেন। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত ছাড়া চার জন সহকারী প্রকৌশলীকে কীভাবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ব্যাখ্যা ও প্রতি-চিঠি পেয়ে ৯ মার্চ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সামছুল হক স্বাক্ষরিত পত্রে ১৮ ডিসেম্বরের বোর্ড সভায় গৃহীত সব সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা স্থগিত ও বাতিল করেন। সর্বশেষ পত্রে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, রাজশাহী ওয়াসার এমডিকে জানায় সব প্রকার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পারভেজ মামুদকে প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি না দেওয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রহস্যজনক। একইভাবে বোর্ড সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছাড়াই চার জন সহকারী প্রকৌশলীকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া বিধিসম্মত ও সরকারের অনুমোদনযোগ্য নীতিমালার পরিপন্থি।