সৌদি প্রবাসীদের ফিরে যাওয়া

যে কারণে জটিলতা কাটছে না

করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন দেশ থেকে ৬ লাখের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশে ফেরেন। এর বড় একটি অংশ সৌদি প্রবাসী। তাদের আকামা বা কাজের অনুমতির মেয়াদ সৌদি সরকার প্রথমে ৩০ সেপ্টেম্বর এবং পরে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বেঁধে দেওয়ায় কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার তাড়া ও শঙ্কা বাড়ছে তাদের। এই ফেরত যাওয়ার ক্ষেত্রে মূল জটিলতা তৈরি করেছে ফ্লাইট স্বল্পতা ও সৌদিতে বাংলাদেশ বিমানের বাণিজ্যিক ফ্লাইট অবতরণের অনুমতি না পাওয়া। এছাড়া টোকেন, টিকিট, ভিসা এবং কোভিড টেস্ট নিয়ে জটিলতা পিছু ছাড়ছে না সৌদি প্রবাসীদের। সৌদি আরবে প্রবেশের ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে করোনার সনদ পাওয়া নিয়েও চলছে বিড়ম্বনা।

গত কয়েক দিনের মতো গতকালও টিকিটের জন্য কাওরান বাজারে সাউদিয়া এয়ারলাইনসের অফিসের সামনে ভিড় করেন বিপুলসংখ্যক প্রবাসী। একইভাবে বিমানের টিকিটের জন্যও বাড়তে থাকে ভিড়। সকালে মতিঝিলে বিমানের কার্যালয়ের সামনে ভিড় করেন কয়েক হাজার মানুষ। সাউদিয়া এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সৌদি প্রবাসীদের টিকিটের জন্য টোকেন এবং তারিখ নির্ধারণ করে দিলেও কমছে না বিক্ষোভ। দিনে দিনে বাড়ছে ক্ষোভ। দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রবাসীরা ঢাকায় জড়ো হচ্ছেন কাওরান বাজার আর মতিঝিলে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রবাসীদের নির্ধারিত সময়ে সৌদিতে পৌঁছানোর জন্য যে পরিমাণ ফ্লাইট দরকার তা সীমিত সময়ে ব্যবস্থা করা কঠিন। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, প্রয়োজনে ১৭ অক্টোবরের পরও আকামার সময় বাড়ানোর জন্য সৌদি সরকারের কাছে আমরা আবেদন করব। তবে সৌদি প্রবাসীরা এতে আস্থা রাখতে পারছেন না। এদিকে সৌদি আরবে নতুন করে বাংলাদেশ বিমানের ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি এখনো মেলেনি। এখনো বিশেষ অনুমতিতেই চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করতে হচ্ছে বিমানকে। দিন গড়াচ্ছে তবু মিলছে না সমাধানের পথ। সরকারের আশ্বাস আর দুতিয়ালিতেও ফল মিলছে না। প্রথম দিনের বিক্ষোভের পর প্রাথমিক সমাধানের চারটি ফ্লাইট ল্যান্ডিংয়ের অনুমতির কথা জানালেও এর পর তার অগ্রগতি থমকে আছে। বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন করে ল্যান্ডিং পারমিশন না পাওয়ায় নতুন কোনো ফ্লাইট বুকিং দেওয়া সম্ভব নয়। নতুন করে কোনো টিকিট দেওয়া হবে না। শুধু সৌদি আরব থেকে রিটার্ন টিকিট কেটে যারা ছুটিতে দেশে এসেছেন তাদের টিকিট দেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

আরও পড়ুন: বিশ্ব জুড়ে নজরদারি করবে এক বিলিয়ন ক্যামেরা

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোকাব্বির হোসেন বলেন, সৌদি আরবে ১ অক্টোবর থেকে বিমানের বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতির জন্য আবেদন করেছে বিমান। তবে এখনো অনুমতি পায়নি। তিনি বলেন, আসন বরাদ্দ শুরু করার আগে ল্যান্ডিং পারমিশন আবশ্যক। কিন্তু ল্যান্ডিং পারমিশন পাওয়া যায়নি। ল্যান্ডিং পারমিশন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফ্লাইট ঘোষণা করা হবে। বাণিজ্যিক ফ্লাইটের অনুমতি না পেলেও বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটের অনুমতি পেয়েছে বিমান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাণিজ্যিক ফ্লাইটের পুরাতন টিকিটের যাত্রীদের চার্টার্ড ফ্লাইটে যাওয়ার ব্যবস্থা করছে তারা। আজ ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান। ২৯ সেপ্টেম্বর বিমান ঢাকা-রিয়াদ ও ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা-জেদ্দা যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করবে। এ ফ্লাইটগুলোতে যেতে পারবেন যাদের ১৮ থেকে ২০ মার্চের জেদ্দা এবং ১৮ ও ১৯ মার্চে রিয়াদের বিমানের ফ্লাইট ছিল। বুকিং করা হচ্ছে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে। সৌদিগামী যাত্রীদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করোনা নেগেটিভ রিপোর্টসহ বিমানবন্দরে আসতে হবে। যাত্রীদের কোভিড-১৯ নেগেটিভ টেস্ট ফলাফলের ছয়টি কপি সঙ্গে রাখতে হবে। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে করোনা পরীক্ষার সনদ গ্রহণ করছে না সাউদিয়া। গতকাল বেসরকারি হাসপাতালে করা ৩২ জনকে বোর্ডিং কার্ড দেয়নি সাউদিয়া এয়ারলাইনস।

এদিকে গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজারে সাউদিয়া এয়ারলাইনসের কাউন্টার থেকে ৮৫১ থেকে ১২০০ নম্বর টোকেন পর্যন্ত সৌদিতে ফেরার টিকিট দেওয়া হয়। কিন্তু কাউন্টারের সামনে অপেক্ষমাণ অনেক প্রবাসী টোকেন না পেয়ে সকাল ১১টার দিকে বিক্ষোভ করতে শুরু করেন। পরে এয়ারলাইনস কাউন্টার কর্তৃপক্ষ থেকে যারা টোকেন পাননি, তাদের ২৯ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে আগামী ৪ অক্টোবর এসে টোকেন নিতে বলা হয়েছে। এই সময় পর্যন্ত সৌদিতে যাওয়ার কোনো টিকিট বিক্রি করা হবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়। আর এতেই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তারা। কেউ আবার অভিযোগ করছেন টিকিট কালোবাজারির। বিক্ষুব্ধ প্রবাসীরা এক পর্যায়ে প্রধান সড়ক আটকে দেওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। বিপাকে পড়েন অফিসগামী যাত্রীরা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নিলেও সোনারগাঁ মোড়ে অবস্থান নেন তারা।

টিকিটের কোনো সমস্যা হবে না :প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, সৌদি আরবে যেতে টিকিটের কোনো সমস্যা হবে না। সবাই যেতে পারবেন, সফর মাস শেষ হবার আগেই। গতকাল শনিবার নিজের ফেসবুকে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। শাহরিয়ার আলম বলেন, নিজের টিকিটটা আগে সংগ্রহের উদ্দেশে সবাই একসঙ্গে টিকিট কাটার চেষ্টা করছেন বলে ভিড় হচ্ছে বা মনে হচ্ছে টিকিটের সংকট, যা সত্য নয়। প্রয়োজনে ফ্লাইট সংখ্যাও বাড়ানো হবে। অযথা হৈ-হুল্লোড় বা তাড়াহুড়োর কোনো প্রয়োজন নেই। দাম্মামেও ফ্লাইট পরিচালনার জন্য আমরা বলেছি এবং তা করা হবে। তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে। কেউ বাদ যাবেন না। ঢাকার সৌদি দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য নিয়ম মেনে আবেদনের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

ইত্তেফাক/এএএম