চা বাগানে
দুটি পাতা একটি কুঁড়ির সবুজ গালিচা ঘিরে
তার গা ছুঁয়ে সেই শিশুকাল আসে যে ফিরে ফিরে।
দুই ধারে তার দাঁড়িয়ে পাহাড় পথ চলে গেছে দূরে
পাহাড়ের গায়ে জেগে ওঠে রবি প্রতিটি নতুন ভোরে।
সারি সারি গাছেরা দাঁড়িয়ে দেয় সুশীতল ছায়া
চোখের পাতায় ভেসে ওঠে সেই সবুজের চির মায়া।
চায়ের পাতার ফাঁকে ফাঁকে শাদা ফুলের রঙ বাহারে
চাবাগানে এলে মনের দরজাটা খুলে যায় আহা রে!
পালা-পার্বণ হোলি উৎসবে বাজে রে মধুর বিন
চা শ্রমিকের আঁধার কাটে না, আসে না সুখের দিন।
ষড়ঋতুর এই বাংলা মায়ের সুবিপুল বৈভব
প্রকৃতির সাথে মিলে-মিশে চলে জীবনের উৎসব।
আসবে কি আর ফিরে
হারিয়ে গেছে শাপলাদিঘি
সুজন মাঝির ঘাট
হারিয়ে গেছে বটের তলা
খেলার সবুজ মাঠ।
হারিয়ে গেছে রাখাল ছেলে
চড়ায় না সে গরু
গাছ-গাছালি উজাড় হয়ে
গ্রামগুলো আজ মরু।
হারিয়ে গেছে শাল-কড়ুই আর
লম্বা বাঁশের ঝাড়
বিল-ঝির আর বন-বনানী
পিছল পুকুর পাড় ।
হারিয়ে গেছে ঝোপে-ঝাড়ে
জোনাকজ্বলা রাত।
পল্লি মেয়ের নাকের নোলক
রেশমি চুড়ির হাত।
হারিয়ে গেছে ষাঁড়ের নাড়াই
আর যে রথের মেলা
মধুর সুরে পুঁথিপাঠের
আসর সন্ধ্যে বেলা ।
সেসব স্মৃতি দেয় যে উঁকি
হাজার স্মৃতির ভিড়ে।
মধুর মধুর সে দিনগুলো
আসবে কি আর ফিরে!