বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাড়ের দ্বিতীয় গাইড বাঁধ

পুনর্নির্মাণকাজ শেষ না হতেই ফের ভাঙন!

অভিজিত্ ঘোষ, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাড়ে দ্বিতীয় রক্ষা গাইড বাঁধের পুনর্নির্মাণকাজ শেষ হতে-না-হতেই ফের ভাঙন শুরু হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নদীভাঙনে কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের গরিলাবাড়ী এলাকায় ১৫০ মিটার বাঁধ ও বাঁধের ভেতরে থাকা পাকা দালানসহ বেশ কয়েকটি বসতভিটা বিলীন হয়। ভাঙন অব্যাহত থাকায় হুমকির মুখে বঙ্গবন্ধু সেতুসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম। এর আগেও চলতি বছরের জুলাই মাসের শুরুতে ভাঙনের কবলে পড়ে বাঁধটির শেষ প্রান্তের ৫০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

জানা গেছে, যমুনার ভাঙন থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু রক্ষার্থে ২০০৪ সালে সেতুর পূর্ব পাড়ের দক্ষিণ পাশে কার্পেটিং ও সিসি ব্লকের মাধ্যমে নির্মাণকাজ করা হয় দ্বিতীয় রক্ষা গাইড বাঁধ। বাঁধে ২০১৭ সালে আঘাত হানে যমুনা। অল্প সময়ের ব্যবধানে বাঁধ ও বাঁধের অভ্যন্তরের কয়েক শতাধিক বসতভিটা যমুনার গর্ভে চলে যায়। পরে পুনঃবাঁধ নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয় সেতু কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ৩৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৫০ মিটার এই গাইড বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ করে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রথম থেকেই গাইড বাঁধ নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ করে আসছিল স্থানীয়রা। শনিবার পুনর্নির্মাণ করা বাঁধটির মধ্যবতী অংশে ভাঙন দেখা দেয়। গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী তালুকদার বলেন, বাঁধ নির্মাণে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। যে টাকা ধরা হয়েছিল বাঁধ নির্মাণে তার অর্ধেক টাকাও ব্যয় হয়নি।

বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এহসানুল কবির পাভেল বলেন, ভাঙন ঠেকাতে প্রতিনিয়ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যখন বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয় তখন নদীর গভীরতা ছিল ৪০ মিটার। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কারণে নদীর গভীরতা দাঁড়ায় ৪৫ মিটারে। ফলে সেখানে ভাঙন শুরু হয়েছে।