মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম
আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে আমার খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তিনি একজন মমতাময়ী মা। মায়ের পরম আদর ও ভালোবাসা দিয়ে তিনি তিলে তিলে আমাদের গড়ে তুলেছেন। মায়ের কাছে একজন সন্তান তার সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, বিশ্বাস ও সম্ভবনার কথা খুব সহজে বলতে পারে। আমি যখন এই মমতাময়ী মায়ের কাছে গিয়েছি, তখন আমার মন আবেগে আপ্লুুত হয়েছে। তার কাছ থেকে আমি শিখেছি দেশকে কীভাবে গড়ে তুলতে হয়, মানুষকে পরম আদরে কীভাবে কাছে টেনে নিতে হয়। যতবার তার স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে কাছাকাছি গিয়েছি ততবার জীবনকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ পেয়েছি। তিনি মানুষের ভেতরে প্রবেশ করে মানুষকে বুঝতে পারেন। কেউ যদি তার কাছে ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে যায়, তা তিনি জীবনের গভীর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উপলব্ধি করতে পারেন। একইভাবে কেউ যদি নিজের স্বার্থের উদ্দেশ্যে তার কাছে যায়, সেটিও তিনি বুঝতে পারেন। এক গভীর অন্তর্দৃষ্টি তার ভেতর ও বাহিরে বিরাজমান। এখান থেকে আমি শিখেছি, যে কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে ভালো ও মন্দকে কীভাবে যাচাই করে দেশকে এগিয়ে নিতে হয়। খুব সাদাসিধে জীবন তার। সেখানে নিজের কোনো স্বার্থ নেই। কেবল আছে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ত্যাগ আর ত্যাগ। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট মা, বাবা, ভাইসহ তিনি হারিয়েছেন পরিবারের সব সদস্যকে। ভাগ্যক্রমে তিনি ও তার বোন শেখ রেহেনা বেঁচে যান। দুঃসহ সেই দিনগুলোর কথা আজও তার মনকে বেদনায় ভারাক্রান্ত করে তোলে। ঘাতকের নির্মম বুলেটের প্রতিটি আঘাত তার জীবনকে থমকে দেয়। কিন্তু তার পরও তো পিতার সোনার বাংলা তাকে গড়তে হবে। বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে হবে। সুদীর্ঘ ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি দেশে ফেরেন। বাধা এসেছে অনেক, কিন্তু মানুষের ভালোবাসার শক্তিতে সেই বাধা কখনো প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। দেশে ফিরে একের পর এক অপশক্তির বিরুদ্ধে তিনি লড়ে গেছেন, কিন্তু সোনার বাংলা গড়ার বিশ্বাস কখনো হারাননি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা দিনে দিনে রাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন। জনমানুষের নেতা হতে হলে যে রাজপথের কর্মী হতে হয়, তা তিনি আমাদের শিখিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করেছেন। এভাবে ক্রমাগত সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার আত্মবিশ্বাস আমাদের মধ্যে গড়ে তুলেছেন। সততার শক্তিতে আমাদের উজ্জীবিত হতে অনুপ্রাণিত করেছেন। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে লড়ার কর্মকৌশল তিনি গ্রহণ করেছেন। অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে বারবার তার জীবন বিপন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর ২১ বার হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু তিনি মৃত্যুকে কখনো ভয় করেননি, বরং দেশের হাল ধরেছেন। উন্নয়নের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তার চিন্তাশীলতার প্রয়োগ ঘটেনি। এই চিন্তাশীলতা তিনি নিজের মধ্যে না রেখে তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন। উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি নতুন নতুন নেতৃত্ব তৈরি করে চলেছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভিন্ন ভিন্ন ধারার নেতৃত্বের মাধ্যমে উন্নয়নের বিবিধ ধারাকে একত্রিত করে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা। করোনার মতো মহামারি নিয়ে সারা বিশ্ব যেখানে কর্মকৌশল গ্রহণের মাধ্যমে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নেতৃত্বের গুণাবলিতে সফল হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের প্রশংসা করে লিখেছেন, প্রায় ১৬ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস বাংলাদেশে। সেখানে দুর্যোগ কোনো নতুন ঘটনা নয়। আর এই করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেননি তিনি। তার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের কৌশলকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (উই ফোরাম) প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তিনি একজন সাধারণ ভিক্ষুক থেকে শুরু করে সমাজের সব স্তরের মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মর্যাদা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছেন। দুর্নীতিবাজ যতই শক্তিশালী ও প্রভাবশালী হোক না কেন, দুর্নীতিকে তিনি কখনো প্রশয় দেননি। গ্রাম হোক শহর—এই নতুন ধারণা তিনিই আমাদের দিয়েছেন। তিনি আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করেছেন। এর ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪০ লাখ থেকে ৮ কোটি ২০ লাখে উন্নীত হয়েছে। অফিস-আদালতে ই-নথি কার্যক্রম সাফল্যজনকভাবে চালু হয়েছে। তিনি নিরলসভাবে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য কাজ করে চলেছেন। সারা দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টা তিনি দেশকে নিয়ে ভাবেন। দেশের মানুষকে নিয়ে ভাবেন। নতুন নতুন ভাবনা সৃষ্টি করে কীভাবে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা যায়, তা কেবল তার মতো একজন মহান নেতাই ভাবতে পারেন। এর আগে যা কেউ কখনো ভাবেনি, তা তিনি ভেবেছেন। ভিশন ২০২১ ও ভিশন ২০৪১-এর মতো দূরদর্শী ভাবনা তার চিন্তাধারা থেকেই উত্সারিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদরের কন্যা ধীরে ধীরে কর্মী থেকে নেতা, নেতা থেকে দেশরত্ন, দেশরত্ন থেকে বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, কীভাবে ভোগের রাজনীতিকে ত্যাগ করে ত্যাগের রাজনীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করে যেতে হয়। তিনি বিশ্ব পরিমণ্ডলে মেধা, সাহসিকতা, মানবিকতার মূল শক্তি হয়ে উঠেছেন। দক্ষ কূটনৈতিক কৌশল প্রয়োগ করে কীভাবে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ রক্ষা করা যায়, সেটি আমরা তার কাছ থেকে শিখেছি। তিনি মানবতার নেত্রী। মানুষের দুঃখ-কষ্টে তিনি কাঁদেন। আবেগে আপ্লুত হন। আপন করার এক মহতী শক্তি তার মধ্যে বিরাজমান। তিনি তার বিশাল ভালোবাসা ও উদারতার ছায়ায় মানুষকে বিপদে-আপদে রক্ষা করে চলেছেন। ব্রিটিশ পত্রিকার ভাষ্যমতে, তিনি ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’। রোহিঙ্গা ইস্যুতে গার্ডিয়ান পত্রিকায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যে বিশাল মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন, তা বিরল।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের এগিয়ে নিয়েছেন। এই শত বছরব্যাপী পরিকল্পনার মাধ্যমে বন্যা, নদীভাঙন, নদীশাসন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামের পানি সরবরাহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে, যা দেশরত্নর দূরদর্শী ভাবনার বাস্তব প্রতিফলন। আমি প্রাণপ্রিয় নেত্রীর উন্নয়নের সামগ্রিক চিন্তা, আদর্শ ও নেতৃত্বের ধারণাকে আমার গাজীপুর মহানগরের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনুসরণ করে চলেছি। দেশরত্ন মানুষের কল্যাণের জন্য ক্লান্তিহীন কাজ করে যাওয়াকে অনুপ্রেরণা হিসেবে আমার জীবনে ধারণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। জয় হোক আমাদের সব স্বপ্ন ও সম্ভাবনার।
বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া বাংলাদেশকে তারই কন্যা আজ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর পথ তৈরি করে দিয়েছেন। বাঙালি জাতির কান্ডারি শেখ হাসিনার দ্বারাই কেবল সম্ভব এতগুলো কাজ একসঙ্গে করা। ৭৪ বছরে এসেও তিনি রাত-দিন কাজ করছেন দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। প্রতিদিন ফজরের নামাজ আদায়ের পর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় মমতাময়ী শেখ হাসিনার দিবসের কর্মসূচি। আমাদের প্রয়োজনে, এ জাতির প্রয়োজনে নেত্রী আপনাকে ভালো থাকতেই হবে। আপনি ভালো থাকুন, খুব ভালো। আপনি ভালো থাকলে পথ হারাবে না বাংলাদেশ। আপনি আমাদের আদর্শ, ভাবাদর্শ ও জীবনদর্শন। ৭৪তম জন্মদিনে আপনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ফুলেল শুভেচ্ছা।
n লেখক :মেয়র, গাজীপুর সিটি করপোরেশন।