‘মানবধর্মই বিদ্যাসাগরের মননে ও কর্মে উদ্ভাসিত’

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদ্বিশতবর্ষ উদ্যাপন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদ্বিশতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তারা বলেছেন, আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত থাকাটাই হচ্ছে আত্মস্বাধীনতা অর্জনের চাবিকাঠি। এই অর্জনই অপর মানুষকে নিয়ে শুভ কল্যাণময় সমাজ গড়ে তুলতে পারে। বিদ্যাসাগর তার সারা জীবন ধরে তাই করিয়ে দেখিয়েছেন।

বাংলা একাডেমি গতকাল রবিবার একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদ্বিশতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। বক্তব্য দেন অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক সায়েরা হাবীব।

অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল বলেন, বিদ্যাসাগরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ‘অজেয় পৌরুষ; তার অক্ষয় মনুষ্যত্ব’। এই মানবধর্মই বিদ্যাসাগরের মননে ও কর্মে উদ্ভাসিত। মানুষের প্রতি ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধই নিজেকে আত্মকেন্দ্র থেকে বের করে এনে অন্যের বেদনাকে উপলব্ধির মধ্যে আনতে সক্ষম হয়। বিদ্যাসাগর সেই দর্শনে উদ্বুদ্ধ ছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, বিদ্যাসাগর খণ্ডিত রেনেসাঁর প্রতিভূ ছিলেন না। তার নবজাগরণ-চিন্তা কেবল ওপরতলার বিশিষ্টদের জন্য ছিল না বরং তা ছিল শ্রেণি-নিরপেক্ষ। তার ভাষা-সাহিত্য-শিক্ষাচিন্তা কিংবা নারী ভাবনা—কোনোটাই কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় ছিল না। বরং একটি কেন্দ্রীয় চিন্তাকাঠামোয় তিনি গোটা অনগ্রসর বঙ্গসমাজকে পরিবর্তন করতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, জীবদ্দশায় এবং এখনো বিদ্যাসাগরকে ভ্রান্ত ব্যাখ্যার বেড়াজালে আবদ্ধ করা হচ্ছে। কিন্তু তার অনন্য জীবন এবং অসাধারণ সৃজন—উভয়ের মধ্য দিয়ে তিনি জন্মের ২০০ বছর পেরিয়ে আজও সমান প্রাসঙ্গিক, সমান দীপ্যমান।

স্বাগত বক্তব্যে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এক বহুমাত্রিক সৃজনপ্রতিভা; বাংলা গদ্যের জনক, নারীহিতৈষী, পরহিতব্রতী, শিক্ষাসাধক, সমাজ-সংস্কারক, সাহিত্যিক, সর্বোপরি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অবিস্মরণীয় মানবপূজারি। এই অসামান্য মনীষার দ্বিশত জন্মবর্ষে আমরা বাংলা একাডেমি পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা, বিদ্যাসাগর স্মারকগ্রন্থ এবং তার রচনাবলি প্রকাশের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এসব বাস্তবায়িত হলে আমরা তার প্রতি বাঙালি জাতির ঋণ স্বীকারের পথে কিছুটা হলেও অগ্রসর হতে পারব নিঃসন্দেহে।