বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) আশুগঞ্জ শাখার নৈশপ্রহরী খুন হয়েছেন। শনিবার রাতে নৈশপ্রহরী রাজেশ বিশ্বাসের (২৫) হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার গোলচত্বরের পাশে নজরুল ডাক্তারের বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলায় ব্যাংকের ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়।
নিহত রাজেশ সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার চান্দপুর এলাকার হীরোদ বিশ্বাসের ছেলে। তিনি বিডিবিএল ব্যাংকে ২০১৮ সালের মে মাস থেকে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুর্বৃত্তরা ব্যাংকের লকার ভাঙলেও ভল্ট ভাঙতে পারেনি। তবে ব্যাংকের বিভিন্ন টেবিলের ড্রয়ার ভেঙে কাগজপত্র তছনছ করেছে।
পুলিশ ও ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাংকের ভেতরেই নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন রাজেশ। শনিবার রাতে ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা এসে ভেতরে যাওয়ার জন্য ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাচ্ছিল না। পরে তারা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে দরজ ভেঙে ভেতরে ঢুকে রাজেশের হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ব্যাংকের দুই জন নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, নগদ কোনো টাকা খোয়া যায়নি। তবে টেবিলের বিভিন্ন ড্রয়ার ভেঙে কাগজপত্র তছনছ করেছে এবং একটি ল্যাপটপ নিয়ে গেছে। এছাড়া ব্যাংক ভবনের উত্তর পাশের জানালার গ্রিল কাটা পাওয়া যায়। যার ভেতর দিয়ে একজন সহজেই ব্যাংকে প্রবেশ বা বের হতে পারবে।
গতকাল রবিবার সকালে বিডিবিএলের প্রধান কার্যালয় থেকে জোনাল ম্যানেজার এ বি এম জহিরুর হক, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল বাসেদ, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রেজাউল করিম, মো. মুজিবুল ইসলাম তালুকদার ও প্রিন্সিপাল অফিসার মো. জাকিবুল ইসলাম আশুগঞ্জ শাখায় এসে সবকিছু খতিয়ে দেখেন।
জোনাল ম্যানেজার এ বি এম জহিরুর হক জানান, আমরা ব্যাংকের ভল্ট খুলে টাকা পয়সা, কাগজপত্রসহ সবকিছুই ঠিক পেয়েছি। এছাড়াও আরো কোনো অসঙ্গতি আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিডিবিএল ব্যাংক আশুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার কাজ শেষ হওয়ার পর শুক্রবার ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ ছিল। শনিবার রাতে কাজের জন্য ব্যাংকে এসে ভেতর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে আমরা পুলিশকে খবর দিই। ব্যাংকের মূল্যবান জিনিসপত্র সবকিছুই ব্যাংকের ভল্টের মধ্যে সুরক্ষিত থাকে। মূল্যবান দলিলাদিসহ টাকা পয়সা কোনোকিছুই নিতে পারেনি। তবে ম্যানেজারের রুমে থাকা একটি ল্যাপটপ পাওয়া যচ্ছে না। রাজেশের মৃত্যুর বিষয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা ও ব্যাংকের ভল্টের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়ারি করা হবে।
আশুগঞ্জ থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লাশ ফুলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ আমরা সংগ্রহ করেছি। অপরাধীদের ধরতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রইস উদ্দিন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, সিঅইডি, পিবিআইর বিশেষজ্ঞদলসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি খুবই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।