এমসি কলেজে স্বামীকে আটকে স্ত্রীকে ধর্ষণ

ভারতে পালাতে গিয়ে মূল হোতা গ্রেফতার

সিলেটের এমসি কলেজ হোস্টেলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার ভোরে নদী পার হয়ে ভারতে পালানোর সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। হবিগঞ্জের পৃথক স্থান থেকে আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং র্যাব। তবে এখনো অধরা অন্য পাঁচ অভিযুক্ত। এদিকে এই গণধর্ষণের ঘটনায় সিলেট জুড়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে। ধর্ষণের শিকার নারী গতকাল রবিবার আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন এই নারী এখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এমসি কলেজ এলাকায় স্বামীকে নিয়ে নিজ গাড়িতে করে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ী          এলাকার তরুণী। এ ঘটনায় শনিবার ছাত্রলীগের ছয় কর্মীর নাম উল্লেখ করে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ধর্ষিতার স্বামী। ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সব আসামির গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বিভিন্নস্থানে কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। ধর্ষকদের উদ্দেশ্য করে এলাকাবাসীও ঘৃণা ও শাস্তি দাবি করেছেন। গতকাল দুপুরে সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে বাংলাদেশ আঞ্জুমানে তালামিজে  ইসলামিয়া মানববন্ধন করেছে এবং সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে পৃথক পদযাত্রা বের হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে ঝড় চলছে। আবার অভিযুক্তদের কয়েকজন তাদের ফেসবুক আইডিতে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা চালালে, প্রতিবাদে অনেকেই পাল্টা আক্রমণ করছেন।

গতকাল সকাল ৬টার দিকে হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে অভিযুক্ত অর্জুন লস্কর এবং রাতে নবীগঞ্জ থেকে রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আরেক আসামী মাহবুবুর রহমান রনিকে জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে র্যাব। 

যেভাবে গ্রেফতার হয় সাইফুর

আমাদের ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গতকাল ভোরে  নোয়ারাই খেয়াঘাট থেকে ছাতক থানা পুলিশের একটি দল সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার করে। সে খেয়া পাড়ি দিয়েছিল ভারত পালানোর উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিল। সাইফুর বালাগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর-চান্দাইপাড়া গ্রামের তাহিদ মিয়ার ছেলে। ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যেহেতু মামলার তদন্ত করছে সিলেটের শাহপরান থানা পুলিশ। তাই আসামিকে শাহপরান থানার ওসি কাইয়ুম চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পালানোর আগে সাইফুর তার মুখের দাড়ি কেটে ফেলে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে। এমসি কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, সাইফুর এমসি কলেজের ইংরেজী বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছে। তার ইভটিজিং ও হয়রানির কারণে এমসি কলেজ থেকে অনেক মেয়ে অন্য কলেজে চলে যায়। সাইফুর ও তার সহযোগীরা সাধারণ শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি করতো।

আত্মীয়ের বাড়ি পালিয়ে ছিলেন অর্জুন

আমাদের হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ও চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গণধর্ষণের ঘটনায় মামলার চার নম্বর আসামি অর্জুন লস্করকে গতকাল সকাল ৬টার দিকে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। অর্জুন জকিগঞ্জ উপজেলার আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে।