হাঙ্গেরির টেলিকম সংস্থা মেগার টেলিকম (এমটিইএল ডট বিইউ) জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাশিয়া,চীন ও ভিয়েতনামের সার্ভার থেকে হাঙ্গেরির ব্যাংক ও টেলিকম পরিষেবা শক্তিশালি সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। ফলে ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরি বৃহত্ সাইবার আক্রমণের কবলে পড়েছিল।
বিশ্বের অনেক দেশেই এমন সাইবার আক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেক দেশে আক্রম চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে এমন সংবাদও প্রকাশিত হতে দেখা যাচ্ছে। করোনাকালীন সময়ে সাইবার হ্যাকাররা বেশ সক্রিয় ছিল বলেও ধারণা করছে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। এজন্য তারা বার বার সচেতন হতেও তাগিদ দিয়েছে।
বৃহস্পতিবারে হাঙ্গেরিতে যে সাইবার আক্রমণ হয়েছে তাতে দেশটির আর্থিক লেনদেন এবং টেলিযোগাযোগ সেবায় বড় ধরনের বিভ্রাট সৃষ্টি হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাঙ্গেরিতে সামপ্রতিক সাইবার হামলা কয়েক দফায় চালানো হয়েছিল। হামলার কারণে বুদাপেস্টের কিছু অংশে বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মেগার টেলিকমের সেবাদান বিঘ্নিত হয়েছে। অবশ্য বেশকিছু চেষ্টায় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানটি সাইবার অপরাধীদের কবলমুক্ত হতে এবং সেবাদান স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে সক্ষম হয়েছে। এটি ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সার্ভিস (ডিডিওএস) টাইপের হামলা ছিল। এ ধরনের হামলায় প্রচুর ডাটা ট্রাফিক পাঠিয়ে কোনো নেটওয়ার্ককে স্থবির করে দেয়ার চেষ্টা করে সাইবার অপরাধীরা এবং সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে থাকে।
বিবৃতিতে মেগার টেলিকম জানিয়েছে, সামপ্রতিক আক্রমণে ডাটা পাঠানোর হার গতানুগতিক ডিডিওএস আক্রমণের চেয়ে ১০ গুণ বেশি ছিল। যে কারণে এটিকে হাঙ্গেরিতে হওয়া সবচেয়ে বৃহত্ সাইবার হামলাগুলোর একটি মনে করা হচ্ছে। সাইবার অপরাধীরা বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল।
হাঙ্গেরিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত সামপ্রতিক সাইবার হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনো হ্যাকার দল। এটি রুশ, চীনা ও ভিয়েতনামিজ হ্যাকারদের কাজ বলে ধারণা করা হলেও এসব দেশের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
সূত্র :রয়টার্স