শকুনের দল রক্তাক্ত করে যাচ্ছে বাংলাদেশের পতাকা, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি আজ ধর্ষিত! কারো কি জানা আছে, মেয়েরা কোথায় নিরাপদ থাকতে পারবে? সাম্প্রতিক সময়েই হয়তো স্বাধীন দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর ধর্ষণের ঘটনাগুলো ঘটছে। বাদ যাচ্ছে না শিশু থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ—যে কোনো বয়সের নারী। মা-বাবার আঁচলে থাকা তরুণীকে ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করা হচ্ছে, এই দেশে অন্যতম নিরাপদ ভাবা স্বামীর সঙ্গে থাকা তরুণীকেও ছিনিয়ে নিয়ে গণধর্ষণ করা হচ্ছে! একটা সময় মনে করা হতো—নিরাপত্তা, শ্রেণিভেদে হয়তো ধর্ষণের তারতম্য হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা ধোঁয়াশা কাটিয়ে দিল। যথেষ্ট সচেতন, শিক্ষিত হয়েও রাজধানী শহরের একটি সুরক্ষিত এলাকায় ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের পর বাংলাদেশের বড় একটা শ্রেণি ‘ভিকটিম ব্লেইমিং’ শুরু করে। পুরুষতন্ত্রের এই অন্যতম প্রতিনিধিরা রক্ষণশীলতা ও কুসংস্কারকে আশ্রয় করে নারীর পোশাককে দায়ী করে ধর্ষণের জন্য, স্বাধীন চলাফেরাকে দায়ী করে ধর্ষকের অপরাধ লঘু করার চেষ্টা চালিয়ে যায়। সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিশেষ শ্রেণিটির উদ্দেশে বলা যায়, ধর্ষণের জন্য কোনো পোশাক দায়ী নয়, পারিপার্শ্বিকতা দায়ী নয়, দায়ী একদল মানুষরূপী পুরুষের বিকৃত লালসা। এর পিছনে একটি বড় কারণ হতে পারে—বাংলাদেশের অধিকাংশ পুরুষ এখনো নারীকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে ভাবতে পারে না, তাই প্রতিনিয়ত তারা নারীকে অবজেকটিফাই করে যায় ক্ষেত্রভেদে। সিলেটের এমসি কলেজে যে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সেখানে নারীটি তার স্বামীর সঙ্গে ছিল তবু কেন এমন হলো? এসব ঘটনার কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই। সভ্যতার অগ্রগতির এই যুগে মধ্যম আয়ের ছোট্ট এই দেশটিতে যখনই নারী মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখছে, জাতীয় অগ্রগতিতে অবদান রাখছে, তখন ধর্ষণের কালো থাবা তাদের পথকে কণ্টকাকীর্ণ করে তুলছে প্রতিনিয়ত। এ অবস্থা চলতে থাকলে হয়তো সামনের দিনগুলোতে পিতামাতারা তাদের মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে আতঙ্ক বোধ করবে, কর্মক্ষেত্রে পাঠাতে সাহস করবে না। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, সেই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য বিশ্বে অন্যতম রোলমডেল হিসেবে প্রশংসনীয় হচ্ছেন ইতিমধ্যে, তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফরিয়াদ থাকবে—প্রচলিত আইনের দীর্ঘসূত্রতাকে পাশ কাটিয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে ধর্ষণের সর্ব্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করা হোক। জনসম্মুখে ধর্ষণকারীকে এমন শাস্তি দেওয়া হোক—তা যেন একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। নিরাপদ হয়ে উঠুক আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ, নিরাপদ হোক পৃথিবী প্রতিটি মানুষের জন্য।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।