মিঠাপুকুরে টানা বৃষ্টিতে পানির তোড়ে এলজিইডির আওতাধীন কালুরঘাট ব্রিজের সংযোগ সড়ক ভেঙে ঘাঘট নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। এর ফলে মিঠাপুকুর ও পীরগাছা উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুন ভূঁইয়া গত শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয়রা জানায়, মিঠাপুকুর ও পীরগাছা উপজেলার মধ্যদিয়ে বয়ে গেছে ঘাঘট নদী। মিঠাপুকুর উপজেলার অংশে ভাংনী ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ি গ্রামে ঘাঘট নদীর একটি ঘাট ‘কালুরঘাট’ নামে পরিচিত। এখানে দুই উপজেলার মানুষের নৌকায় পারাপার ছিল একমাত্র ভরসা। তাও আবার বেশি রাত হলে নৌকা বন্ধ থাকতো। দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে এই ঘাটে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। নাম রাখা হয় কালুরঘাট ব্রিজ। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যা তাদের সেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। পানির তোড়ে ব্রিজের সংযোগ সড়ক ভেঙে নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থা। স্থানীয় আউয়াল মিয়া বলেন, ব্রিজের দক্ষিণ পাশের সংযোগ রাস্তা ভেঙে নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দ্রুত রাস্তা মেরামতসহ ব্রিজের সংযোগ দিয়ে দুই উপজেলার মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার দাবি জানান তিনি। ভাংনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান জানান, ওপর মহলের কর্মকর্তারা ভেঙে যাওয়া স্থান পরিদর্শন করেছেন, আশা করছি দ্রুত একটা ব্যবস্থা হবে। মিঠাপুকুর উপজেলা প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান বলেন, প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে সংযোগ সড়ক মেরামত কাজ শুরু করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) গত বছর বর্ষার কারণে নদীভাঙন রোধে ১৫০ মিটার ব্লকের নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি। পানি নামতে শুরু করলে তারা কাজটি করে দেবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুন ভূঁইয়া বলেন, ভেঙে যাওয়া সংযোগ সড়কটি যত দ্রুত সম্ভব মেরামত করা হবে।