টিভি পর্দায় ‘হাসিনা : অ্যা ডটার্স টেল’

একজন সাধারণ সংগ্রামী নারীর অসাধারণ হয়ে ওঠার ডকুফিল্ম

১৯৮১ সালে বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, দিক হারানো-দ্বিধাবিভক্ত-নেতৃত্বশূন্য আওয়ামী লীগের হাল ধরে দলকে আবারো কক্ষপথে ফেরানো, প্রধানমন্ত্রিত্ব এবং একজন জাতির পিতার মেয়ের রাজনীতিক হয়ে ওঠার ছবি ‘হাসিনা: অ্যা ডটার্স টেল’। গতকাল সোমবার দুপুর ৩টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে এটি প্রদর্শিত হয়। এছাড়া দুপুর ১২টায় একুশে টিভি, দুপুর ৩টায় একাত্তর টিভি ও চ্যানেল আই, দুপুর ৩টা ৫০ মিনিটে গাজী টেলিভিশনে, বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে ডিবিসি, বিকাল ৫টায় সময় টিভি, ৫টা ৩০ মিনিটে দেশ টিভি, রাত ৮টা ৫০ মিনিটে বাংলা টিভি, রাত ৯টা ৩০ মিনিটে বিজয় টিভি এবং রাত ১১টায় মাছরাঙ্গা টেলিভিশন চ্যানেলের পর্দায় প্রচারিত হয় এই ডকুফিল্ম।

এই ডকুফিল্মে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয় একজন সাধারণ সংগ্রামী নারীর অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি দেখানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর জীবনে তার বোন শেখ রেহানার ভূমিকা, দেশ ও স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু পরিবারের নানা ত্যাগের চিত্রও। যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়, তখন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে ছিলেন। এই ডকুফিল্মে তারা তাদের সেই সময়ের গুমরে ওঠা সময় ও কষ্টকে বয়ান করেছেন, তবে পরিমিত পরিসরে। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা বলছেন, ‘সব যদি স্বপ্ন হতো। বাংলাদেশে বাঙালিরা আমার বাবাকে মারবে, এটা তো ধারণারও বাইরে।’ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে যখন বাংলাদেশের মাটিতে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করতে উদ্যত, সে সময় জার্মানিতে ক্যান্ডেললাইট ডিনারে ছিলেন উল্লেখ করে শেখ রেহানা বলেন, ‘আমরা খুব হাসাহাসি আর গল্প করছিলাম। মেয়েরা সব আমার বয়সি। হাসাহাসি, গল্প। ভোর রাতে একটা কল এলো।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘এত কর্কশ ফোনের আওয়াজ জীবনে শুনি নাই। যে রুমটায় ছিলাম, সেখান থেকে একটা সিঁড়ি নেমে গেছে। সিঁড়ির কোনায় ফোন। আমি গিয়ে ধরতেই বলল, ‘তোমার হাসবেন্ডকে ডাকো।’ সে (হাসিনার স্বামী) ফোন ধরতে বলল, ‘ক্যু’ হয়েছে। যেকোনো ফোন বাজলে বুকের ভেতরে কেমন জানি অন্যরকম কষ্ট। ফোনের আওয়াজটাই সহ্য করতে পারতাম না। পরে হুমায়ুন রশীদ তার কাছে নিয়ে যাওয়ার পরে ‘কেউ সম্ভবত বেঁচে নেই’ বলে জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘রেহানাকে কিছু বলতে পারিনি। পাশের ঘরে গিয়ে দেখি সে শুয়ে আছে। আস্তে করে তাকে জড়িয়ে শুয়ে থাকলাম। এর পরপরই রেহানার বয়ান হাজির হয় বিষণ্নতায়, আপা ভাবছে আমি জানি না, আমি ভাবছি আপা জানে না। আসলে তো আমরা দুজনেই জানি।’

 ‘তাজউদ্দীন আহমদের চলে যাওয়াটা বেশ কষ্টের ছিল’ বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। আর শেখ রেহানা বলেন, ‘মায়ের আতঙ্ক ছিল সবসময়, ‘বলত ওরা ছাড়বে না।’ ওরা কারা সেটা বলত না। শেখ হাসিনা বলছেন, তাজউদ্দীন চাচার চলে যাওয়ার পরে আমি বলেছিলাম, মোশতাক চাচা তো আছেন। এর বিপরীতে আব্বা যা বলেছিলেন সেটি গুরুত্বপূর্ণ। মোশতাক ষড়যন্ত্র করতে পারে এটা আব্বা জানতেন। তিনি বলেছিলেন, ‘মোশতাককে তুই চিনিস? ও সুযোগ পেলে আমার বুকে ছুরি মারবে।’ আব্বা জানতেন কে কী করতে পারে।

সাংবাদিক আবেদ খান তার অনুভূতি জানাতে বলেন, ‘হাসিনা: অ্যা ডটার্স টেল’ আচ্ছন্ন করে রেখেছে। সবকিছু হারিয়ে যেভাবে প্রতি মুহূর্তে বিপদের মধ্যে চলাচল করেছেন দুই বোন, সেটি এত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে—তাদের বয়ান, বাচনভঙ্গি, খুব ভালো লেগেছে। স্ক্রিপ্টিংটাতে অসম্ভব পরিমিতি বোধ ছিল, কখন কোন জায়গায় মিউজিক্যাল বিষয়গুলো একেবারে ছকে বাঁধা। কাজটি এক কথায় চমত্কার। ভেতরটাকে ছুঁয়ে যায়।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তি জীবনের কথা নয়—একটি দেশের জন্মের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত জাতির পিতার পরিবারের অজানা-অদেখা গল্প শোনায় ‘হাসিনা: অ্যা ডটার্স টেল।’