ফরাসি ব্যাঙ্গাত্মক সাময়িকী শার্লি হেবদোর পুরনো অফিসের কাছে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ছুরি হামলার ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছে। বর্তমানে ওই অফিসটি একটি 'প্রিমিয়ার্স লিগনেসের' নিউজ প্রোডাকশন এজেন্সি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ওই হামলায় প্রোডাকশন এজেন্সিটির দুই কর্মী প্রধান দরজার বাইরে সিগারেট টানছিল। এসময় তাদের ওপর হামলা চালায় এক যুবক। সম্প্রতি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে ফের ব্যঙ্গচিত্র ছাপানোয় ফরাসি ব্যাঙ্গাত্মক সাময়িকী শার্লি হেবদোর পুরনো অফিসকে টার্গেট করে হামলা চালানো হয়।
২০১৫ সালে হামলার পর থেকে শার্লি হেবদো তাদের কার্যালয় স্থানান্তর করে গোপন ঠিকানায় নিয়ে যায়। কিন্তু হামলাকারীর ধারণা ছিল ভেবেছিল যে পুরনো অফিস থেকেই এখনো শার্লি হেবদো ম্যাগাজিনটি প্রকাশিত হয়।
তবে হামলার কিছুক্ষণ পরেই রক্তমাখা পোশাক পরিহিত অবস্থায় হামলাকারীকে আটক করে ফ্রান্স পুলিশ। জানা যায়, ১৮ বছর বয়সী আলি হাসান নামে ওই হামলাকারি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত।
হামলাকারীর নাম হাসান আলিও হতে পারে, কেননা এটি এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। কেননা এই তরুণ তিন বছর আগে ফ্রান্সে আসে এবং দাবি করে সে ইসলামাবাদে জন্মগ্রহণ করেছে এবং আসার সময় নাবালক ছিল।
এটাই হত খবরে আসতে পারে আলি ফ্রান্সে এসে হয়তো তালেবান বা জিহাদির হাত থেকে বাঁচতে চাওয়ার অজুহাতে আশ্রয় চেয়েছে। এটা এখন অনেক পরিচিত গল্প এবং এটি কাজও করে। ইউরোপে অভিবাসীরা, বিশেষ করে পাকিস্তানিদের তাদের পরিবারের লোকজন বা পাচারকারীরা এমনটি বলতে পরামর্শ দেয়।
এই তিন বছরে আলিকে ছোটখাটো অপরাধের কারণে বেশ কয়েকবার প্যারিস পুলিশ আটক করে।
এই বছরে সেপ্টম্বরের শার্লি হেবদোর কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় ১৪ জনের বিচার শুরু হয়। এবং তাতে সংহতি ও ভুক্তভোগীদের স্মরণে শার্লি হেবদো পুনরায় মুহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে ফের ব্যঙ্গচিত্র ছাপায়।
এর জেরে পাকিস্তানের বড় শহরে বিক্ষোভে নেমে আসে অনেকে। এছাড়া এনিয়ে ইন্দোনেশিয়া, ইয়েমেন, নাইজেরিয়া, ইরান এমন ফ্রান্সেও এর প্রতিবাদ হয়।
পাকিস্তানি পররাষ্ট্র মন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি রেডিও পাকিস্তানে এনিয়ে ফ্রান্সের ওপর নিন্দা জানায়। তিনি বলেন, এতে কোন ধরণের নিন্দাই পর্যাপ্ত না। এরপর বলেন, আমরা দেখছি বিশ্বজুড়ে ইসলামফোবিয়া বাড়ছে।
এছাড়া টুইট বার্তায়ও কড়া ভাষায় নিন্দা জানান পাক এই মন্ত্রী।
কিন্তু দেশটিতে এত শিয়া এবং আহমাদিয়াদের হত্যা করা হলেও কোনধরণের নিন্দার বাণী শোনা যায়নি। এছাড়া দেশটিতে বেলুচদের প্রতি গুম-হত্যা নিয়ে কোন শব্দ তেমন উঠে আসে না। দ্য কুইন্ট
ইত্তেফাক/এসআর