সাহিত্যের রূপ ও রীতি
১. নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
“আমার লেখার উপরে ছায়া ফেলিয়া পৃথিবীর লোক পথ দিয়া চলিয়া যাইতেছে। তাহারা সঙ্গে কিছুই লইয়া যায় না। তাহারা সুখ দুঃখ ভুলিতে ভুলিতে চলিয়া যায়। জীবন হইতে প্রতি নিমিষের ভার ফেলিতে ফেলিতে চলিয়া যায়। তাহাদের হাসি-কান্না আমার লেখার উপরে পড়িয়া অঙ্কুরিত হইয়া উঠে। তাহাদের গান তাহারা ভুলিয়া যায়, তাহাদের প্রেম তাহারা রাখিয়া যায়।”
ক. কবিতার প্রধান রূপভেদ কয়টি?
খ. গীতিকবিতা ক্ষেত্র বিশেষে দীর্ঘ হলেও অসুবিধা হয় না কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের বিষয়টি কোন ধরনের প্রবন্ধের অন্তর্গত? ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের বক্তব্য থেকে প্রবন্ধের ধরন সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যায় কি? ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
ক. কবিতার প্রধান রূপভেদ হলো দুটি।
খ. গীতিকবিতা ক্ষেত্র বিশেষে দীর্ঘ হলেও অসুবিধা হয় না, যদি তার মাধ্যমে কবির মনের পূর্ণ অভিব্যক্তি প্রকাশিত হয়।
কবিতার প্রধান দুটি রূপভেদের মধ্যে গীতিকবিতা একটি। গীতিকবিতা হলো কবির অনভূতির বহিঃপ্রকাশ। সাধারণত গীতিকবিতা দীর্ঘকায় হয় না। তবে যদি গীতিকবিতার মধ্য দিয়ে কবির মনের পূর্ণ অভিব্যক্তি প্রকাশিত না হয়ে থাকে, তবে ক্ষেত্র বিশেষে গীতিকবিতা দীর্ঘ হলেও অসুবিধা হয় না। তাই বলা যায়, গীতিকবিতার উদ্দেশ্য হলো কবির মনের অনুভূতির পূর্ণ প্রতিফলন ঘটাতে সাহায্য করা।
গ. ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের আলোকে বিচার করলে বলা যায়, উদ্দীপকের বিষয়টি মন্ময় প্রবন্ধের অন্তর্গত। প্রবন্ধ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এর দুটি শ্রেণিবিভাগের মধ্যে মন্ময় প্রবন্ধ একটি। মন্ময় প্রবন্ধের যে বৈশিষ্ট্যের কথা ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধে জানা যায় সেটি উদ্দীপকের বক্তব্য বিষয়ের মাঝেও ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে লেখকের ব্যক্তিগত মনোভঙ্গিই প্রধান হিসেবে ধরা পড়েছে। উক্ত বক্তব্যে দেখা যায়, লেখক পাঠক সমাজের ওপর তাঁর লেখার প্রভাব সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। নিজস্ব লেখা নিয়ে রচয়িতার এমন বক্তব্য তাঁর ব্যক্তি হূদয়ের ভাবনাকেই প্রকাশ করে। আর এটি মন্ময় প্রবন্ধেরই বৈশিষ্ট্য। ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধে প্রবন্ধের দুই ধরনের শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে জানা যায়। এগুলো হলো- তন্ময় প্রবন্ধ ও মন্ময় প্রবন্ধ। মন্ময় প্রবন্ধের মধ্যে লেখকের মেধাশক্তি অপেক্ষা ব্যক্তি হূদয়ই প্রধান হয়ে ওঠে। ফরাসি ভাষার বেল্ লেত্র্ মন্ময় প্রবন্ধের উত্কৃষ্ট উদাহরণ। এ ধরনের লেখাকে অনেকে ‘ব্যক্তিগত প্রবন্ধ’ হিসেবেও আখ্যায়িত করে থাকেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বিষয়টি ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধে উল্লিখিত মন্ময় প্রবন্ধেরই অন্তর্গত।
ঘ. না, উদ্দীপকের বক্তব্য থেকে প্রবন্ধের ধরন সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যায় না, যা ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের আলোকেও জানা যায়।
প্রবন্ধ হলো গদ্যে লিখিত এমন রচনা যার উদ্দেশ্য পাঠকের জ্ঞানতৃষ্ণাকে পরিতৃপ্ত করা। ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধের আলোকে প্রবন্ধের শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে যে ধারণা লাভ করা যায় তা উদ্দীপকের বক্তব্য বিষয়ের মাঝে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। উদ্দীপকের বক্তব্য বিষয়ে লেখকের ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি প্রাধান্য পেলেও তা বস্তুনিষ্ঠ প্রবন্ধকে উপস্থাপন করতে পারে না। ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধে প্রবন্ধের দুই ধরনের শ্রেণিবিভাগের কথা জানা যায়। এগুলো হলো- তন্ময় প্রবন্ধ ও মন্ময় প্রবন্ধ। তন্ময় প্রবন্ধে বিষয়বস্তুর প্রাধান্যকে স্বীকার করা হয় বলে এ ধরনের প্রবন্ধ হয় বস্তুনিষ্ঠ। আর মন্ময় প্রবন্ধে লেখকের মেধাশক্তির চেয়ে ব্যক্তিহূদয়ই বেশি প্রাধান্য পায়। প্রবন্ধে এ দুই ধরনের প্রবন্ধ ছাড়াও আরও এক ধরনের লেখার কথাও আলোচনা করা হয়েছে। সেটি হলো রম্যরচনা। এখানে বিষয় গুরুগম্ভীর হলেও প্রকাশভঙ্গি ও ভাষা সেরকম হওয়া যাবে না। উদ্দীপকের বক্তব্যে এ ধরনের লেখারও বৈশিষ্ট্য অনুপস্থিত। এখানে কেবল লেখকের ব্যক্তিহূদয়ের অভিব্যক্তিই প্রকাশ পেয়েছে যা মন্ময় প্রবন্ধকে উপস্থাপন করলেও অন্যগুলোকে করে না। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা শেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকের বক্তব্য থেকে ‘সাহিত্যের রূপ ও রীতি’ প্রবন্ধে উল্লিখিত প্রবন্ধের ধরন সর্ম্পকে সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যায় না।