সাইফ হাসানের আরেক জয়

টেস্ট ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নেই ছোটবেলা থেকে বেড়ে উঠেছেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট খেলার স্বপ্নটা পূরণ হয়েছে। এবার জাতীয় দলে জায়গাটা পাকা করার পালা। শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য সেভাবেই প্রস্তুত হচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাত্ করেই এক নির্মম সকালে খবর পেলেন, তার শরীরে বাসা বেঁধেছে করোনা ভাইরাস!

এই গল্পটা এখন যে কারো হতে পারে। সারা বিশ্বে লাখো লাখো মানুষ এখন এই গল্পের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। নিয়তি কাউকে কাউকে হাসপাতালে নিচ্ছে, কাউকে অকালে দুনিয়া থেকেই বিদায় করে দিচ্ছে। ফলে গল্পটা এখন অনন্য কিছু নয়। কিন্তু এই রূঢ় গল্পের ভেতর দিয়ে যেতে হলো এবার বাংলাদেশের ওপেনার সাইফ হাসানের।

ভাগ্য ভালো, তাকে অন্তত এই ভাইরাস আক্রমণে মারাত্মক কোনো জটিলতার ভেতর দিয়ে যেতে হয়নি। কদিন আগেই করোনামুক্ত হওয়া সাইফ বলছিলেন, ‘শুধু স্বাদ-গন্ধ চলে গিয়েছিল। এখনো পুরোপুরি ফিরে এসেছে, তা নয়। তবে এ ছাড়া কোনো সমস্যা ছিল না।’

৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় দলের বাকি সবার সঙ্গে রিপোর্ট এসেছিল সাইফ হাসানের। সবার রিপোর্ট নেগেটিভ হলেও সাইফের রিপোর্টে লেখা ছিল পজিটিভ। খবরটা পেয়ে যে একটু ভেঙে পড়েছিলেন, সেটা অস্বীকার করলেন না এই ওপেনার। বলছিলেন, ‘আমার প্রথমেই মনে হলো—আমি কেন! সবার নেগেটিভ এলো, আমার কেনো পজিটিভ হলো। মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। ভয়ও একটু পাচ্ছিলাম। তবে বাসা থেকে দারুণ সাপোর্ট পেয়েছি। বাবা-মা বোঝালেন যে, এটা কোনো ব্যাপার নয়। বন্ধুরাও ফোন করে সাহস দিচ্ছিল। আস্তে আস্তে মানিয়ে নিয়েছি।’

পজিটিভ আসার পর নিয়মমতো আইসোলেশনে চলে গেছেন। সবার থেকে আলাদাই থাকতে চেয়েছেন। কিন্তু বাবা আর মা তাকে এক নজর ছাড়েননি। ছোট বোনটাও মন খারাপ করে ঘুরত। সেই সময়টার কথা বলতে গিয়ে সাইফ বলছিলেন, ‘মা-বাবা রুমে আসতেন। আমি তখন মাস্ক পরে থাকতাম। আমার ছোট বোনটা ক্লাস এইটে পড়ে। ও আমার কাছে কাছে থাকে অন্য সময়। এই সময়টা ও খুব কষ্ট পেয়েছে।’

বাসা থেকে যেমন, তেমনই সমর্থন পেয়েছেন বন্ধুদের কাছ থেকে, বিসিবির কাছ থেকে। এ নিয়ে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই নাঈমের। মাঝে সময় পার হওয়ার আগেই একবার টেস্ট করিয়েছিলেন। তাতে পজিটিভ এসেছিল। অবশেষে ১৪ দিন পার করে টেস্ট করানোতে গত ২৩ তারিখ নেগেটিভ রিপোর্ট পেয়েছেন।

শরীর এখনো একটু দুর্বল। তবে বসে থাকতে রাজি নন সাইফ। করোনা আক্রান্ত থাকা অবস্থাতেও বাসায় শরীরচর্চা করেছেন। এবার অপেক্ষা সামনে যে ক্রিকেট হোক, সেখানেই ঝাঁপিয়ে পড়ার।