সাবেক দুই সোভিয়েত রাষ্ট্র আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক। জাতিসংঘ মহাসচিব ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সংঘাত থামানোর আহ্বান জানালেও এর কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। খবর ডয়চেভেলে ও আলজাজিরার
সোভিয়েতের পতনের পর দুইটি রাষ্ট্র আলাদা হলেও সীমান্তের নাগর্নো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। আজারবাইজানের অভিযোগ, বেআইনিভাবে ঐ অঞ্চলের দখল রেখেছে আর্মেনিয়া। আর্মেনিয়ার বক্তব্য, নাগর্নো-কারাবাখ মুক্তাঞ্চল। বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরই দখলে রয়েছে এলাকা। ২০১৬ সালেও এই নিয়ে কার্যত যুদ্ধ শুরু হয়েছিল দুইটি দেশের মধ্যে। তবে রবিবার থেকে যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে, তা অতীতের সমস্ত সংঘাতকে ছাপিয়ে গেছে।
আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান দুইটি দেশেই মার্শাল আইন চালু হয়েছে। অর্থাত্ যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য সেনার বিশেষ আইন বলবত্ হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ অবশ্য এই যুদ্ধ বন্ধের আবেদন জানিয়েছে। ফ্রান্স এবং জার্মানির আবেদনের ভিত্তিতে নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। রাশিয়া অবিলম্বে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ বন্ধের আবেদন জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রও দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ দুই দেশের প্রতিনিধিকে অস্ত্র ছেড়ে বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু আপাতত অস্ত্র ছাড়ার ইঙ্গিত দুইটি দেশই দেয়নি। অভিযোগ, এই যুদ্ধের পিছনে হাত রয়েছে তুরস্ক এবং সিরিয়ার। সিরিয়া বহু যোদ্ধাকে আজারবাইজান-আর্মেনিয়া সীমান্তে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।