মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে সরকার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা দিলেও এসব রোহিঙ্গা তাতে মোটেই সন্তুষ্ট নন। সোনার হরিণ ধরার স্বপ্নে বিভোর এসব রোহিঙ্গা বিদেশে পাড়ি জমানোর জন্য সু-কৌশলে ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে। পলায়নরত রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন যানবাহন থেকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্পে ফেরত পাঠিয়েছে। করোনায় লকডাউন চলাকালে তাদের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে প্রতিনিয়ত শত শত রোহিঙ্গা সপরিবারে ক্যাম্প থেকে পালাচ্ছে।
কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা জালাল আহমদ বলেন, নতুন করে আসা রোহিঙ্গারা বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নিলেও তারা নিবন্ধনের আওতায় আসেনি। সে কারণে সরকারিভাবে প্রদত্ত ত্রাণসামগ্রীর আওতার বাইরে থাকা এসব রোহিঙ্গার একটি অংশ ক্যাম্প ছেড়ে বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছে।
ক্যাম্প কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ নুর বলেন, ক্যাম্পে বসবাসরত কতিপয় রোহিঙ্গা দালাল চক্র বিদেশে পাড়ি জমানোর ভ্রান্ত আশা দিয়ে অশিক্ষা-কুশিক্ষায় জর্জরিত রোহিঙ্গা পরিবারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। পরে সুযোগ বুঝে এসব রোহিঙ্গাদের অচেনা জায়গায় অপেক্ষা করার কথা বলে দালাল চক্র সঁটকে পড়ে। লম্বাশিয়ায় বসবাসরত এমন একজন রোহিঙ্গার নাম ছালামত উল্লাহ। দালাল চক্রের হাতে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়ে ক্যাম্পে ফিরে আসা এ রোহিঙ্গা তার অভিজ্ঞতা থেকে বললেন, যারা বিভিন্ন প্রলোভনে ক্যাম্প ছাড়ছেন তাদের কোনো না কোনোভাবে বিপদসংকুল অবস্থায় সবকিছু হারিয়ে ক্যাম্পে ফিরে আসতে হবে।
ক্যাম্প-২-এর হেড মাঝি জকরিয়া ও আবু তাহের মাঝি জানান, তাদের সঙ্গে ক্যাম্পে আসা অনেক পরিবারকে দেখা যাচ্ছে না। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, তারা মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে দালালের খপ্পরে পড়ে ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়েছে। ক্যাম্প ইনচার্জ মো. খলিলুর রহমান বললেন, রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গারা ক্যাম্প প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই ক্যাম্পে বাইরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তার জানার কথা নয়। তবে ক্যাম্প থেকে চলে যাওয়ার সময় ক্যাম্প পুলিশের হাতে ধরা পড়লে ঐসব রোহিঙ্গাদের পুনরায় পূর্ব নির্ধারিত স্থানে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
উখিয়া থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ বলেন, তারা তড়িঘড়ি করে সবেমাত্র দায়িত্ব্ভার নিয়েছেন। সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে ঐ কর্মকর্তা সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সচেষ্ট হবেন।