স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের ব্যবহারের জন্য নকল এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহের অভিযোগে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) ছয় কর্মকর্তা ও জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়। দুদকের উপপরিচালক মো. নূরুল হুদা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় সিএমএসডির যে ছয় কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে তারা হলেন—উপপরিচালক ডা. জাকির হোসেন, সহকারী পরিচালক (স্টোরেজ অ?্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন) ডা. শাহজাহান সরকার, চিফ কোঅর্ডিনেটর ও ডেস্ক অফিসার জিয়াউল হক, ডেস্ক অফিসার (বর্তমানে মেডিক?্যাল অফিসার, জামালপুর) সাব্বির আহমেদ, স্টোর অফিসার (পিআরএল ভোগরত) কবির আহমেদ এবং সিনিয়র স্টোর কিপার ইউসুফ ফকির।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চিকিত্সায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সুরক্ষায় ব্যবহারের জন্য এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহের জন্য জেএমআই গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করেছিল সরকার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আসামিরা প্রকৃত এন-৯৫ মাস্কের পরিবর্তে ২০ হাজার ৬১০ পিস নকল এন-৯৫ মাস্ক সিএমএসডিতে সরবরাহ করে। সিএমএসডি ঐ নকল মাস্ক গ্রহণ করে ১০টি প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করে। জেএমআইয়ের সরবরাহকৃত মাস্কের বড় কার্টনের ওপর জেএমআই ফেস মাস্ক মুদ্রিত করা ছিল। এছাড়া বড় কার্টনের মধ্যে এন-৯৫ ফেস মাস্ক মুদ্রিত ছোট বক্সে জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের উত্পাদিত লেখা ছিল।
মামলার এজহারে আরো বলা হয়, নকল এন-৯৫ মাস্ক বিতরণ করে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও অন্যদের মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়। মামলার আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।