চা-শ্রমিক, পাহাড়ি উপজাতিসহ ৫ লক্ষাধিক লোকের চিকিত্সাসেবার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যার কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বিয়ানীবাজার-ঢাকা সড়কের পাশে হওয়ায় এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায়ই দুর্ঘটনাকবলিত রোগীরাও চিকিত্সা নিতে আসেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকসহ প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে রোগীরা এই হাসপাতাল থেকে উপযুক্ত চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই কমপ্লেক্সের আউটডোরে প্রতিদিন তিন শতাধিক ও জরুরি বিভাগে শতাধিক রোগী আসেন। ইনডোরে শয্যার অভাবে ৫০ জনের বেশি রোগী রাখা হয় না। ৩০ শয্যার হাসপাতাল ৫০ শয্যা করা হয়েছে। কিন্তু অবকাঠামো সুবিধা ৩০ শয্যারই রয়ে গেছে। ওয়ার্ডের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। সংস্কার জরুরি। চক্ষু, অর্থোপেডিক্স, শিশু বিভাগে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক নেই। এক্সরে টেকনিশিয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এক্সরে মেশিনটি বাক্সবন্দি হয়ে নষ্ট হতে চলেছে।
কমপ্লেক্সে রয়েছে উন্নত যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ একটি অপারেশন থিয়েটার। কিন্তু চিকিত্সক ও অ্যানেসথেসিওলজিস্ট না থাকায় সেটির ব্যবহার নেই। বর্তমানে হাসপাতালের দুইটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য রয়েছে মাত্র একজন ড্রাইভার। আয়া ও পরিচ্ছন্ন কর্মী না থাকায় কমপ্লেক্সের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নৈশ প্রহরীর অভাবে রোগীদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হয়। ওয়ার্ডে সকলের অবাধ বিচরণ। কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিতে আসা রায়হান মজুমদার, অমল পাল, ফাইমা বেগম জানান, প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে বিভিন্ন টেস্ট ও এক্সরে করতে হয়। কমপ্লেক্সে একটি ল্যাব রয়েছে অথচ আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে রোগীদের তেমন কোনো উপকারে আসছে না। অধিকাংশ টেস্ট ও এক্সরে বাইরে থেকে করতে হয় যা দরিদ্র রোগীদের পক্ষে সম্ভব হয় না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হক জানান, জনবল সংকট রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক না থাকায় অপারেশন থিয়েটার অব্যবহূত থাকছে। পরিশোধিত পানির জন্য কমপ্লেক্স চত্বরে একটি গভীর নলকূপ স্থাপন, ওয়ার্ডের অতি পুরাতন ভবনটির সংস্কার জরুরি। সংস্কারের জন্য গত অর্থবছরে ২০ লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও তা যথেষ্ট নয় বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। প্রায় হাসপাতালের অভ্যন্তরে বিদ্যুতের সমস্যা হচ্ছে। এই সকল সমস্যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ডাক্তাররা চিকিত্সাসেবা দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছেন।