টাকা চেয়েছে সিনোভ্যাক পিছিয়ে গেল করোনা ভ্যাকসিন ট্রায়াল

চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেকের করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বাংলাদেশে শিগিগরই শুরু হবে বলে কথা থাকলেও এ নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। সিনোভ্যাক তাদের ‘অর্থনৈতিক সংকটের’ কথা জানিয়ে ট্রায়ালে বাংলাদেশ সরকারকে ‘কো ফান্ডিং’ বা অর্থ সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করেছে। এদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, একটু সময় লাগলেও সিনোভ্যাকের ট্রায়াল বাংলাদেশে হবে। আর আগামী কেবিনেট মিটিংয়ে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলেই আশা করছেন তারা।

গত ১৯ জুলাই বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি) এ ভ্যাকসিন বাংলাদেশে ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন দেয়। আইসিডিডিআর’বির মাধ্যমে ট্রায়ালের জন্য আবেদন করা হয়। এরপর সিনোভ্যাকের ট্রায়ালের অনুমতি পেতে সময় লাগে প্রায় এক মাস। কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও একাধিকবার দেশে ভ্যাকসিন ট্রায়ালের কথা বলেছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর দেওয়া চিঠিতে সিনোভ্যাক আর্থিক সহযোগিতার কথা জানায় আইসিডিডিআর’বিকে। প্রতিষ্ঠানটি সেটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানায়। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা সিনোভ্যাকের সব শর্তের কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন। যদিও শুরুতে সেটা আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইসিডিডিআর’বি) প্রটোকল অনুযায়ী নিজস্ব অর্থায়নে এ ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হওয়ার কথা ছিল। চিঠিতে সিনোভ্যাক জানিয়েছে, বাংলাদেশে ট্রায়ালের জন্য ফান্ডিং ধরা ছিল। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেছে এবং অন্যান্য দেশে ট্রায়ালের জন্য ‘ফান্ড অ্যালোকেট’ করা হয়ে গেছে। তাই তারা আর্থিক সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশকে অনুরোধ করেছে।

এদিকে, সঠিক সময়ে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন পেতে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই কোভিড থেকে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব মুক্তি পাবে। সেজন্য ভ্যাকসিনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। যাতে সঠিক সময়ে আমরা ভ্যাকসিন পাই সেই কার্যক্রম আমরা নিয়েছি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনায় আমরা অন্যান্য কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছি। গত সাত মাস স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দিনরাত কাজ করেছে। মাঠ পর্যায়ের সব ব্যক্তি কাজ করে গেছেন। ফলে কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। আমাদের দেশে মৃত্যুর হার অনেক দেশের তুলনায় কম। সংক্রমণের হারও কমে এসেছে।’