মো. আল-আমিন আহমেদ
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে যোগাযোগের জন্যে সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব ও প্রভাব অনস্বীকার্য। পারস্পরিক যোগাযোগ, বার্তা আদান-প্রদান, ছবি শেয়ারিং ইত্যাদি আরো অনেক সুবিধার জন্যে ফেসবুকের জুড়ি নেই। কমবেশি সব বয়সী মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করলেও আমাদের দেশে এই ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই ছাত্রছাত্রী ও তরুণ। ফেসবুক ব্যবহারে সুফল থাকলেও রয়েছে এর কুফল ভয়াবহ। ফেসবুক ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যম টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ইত্যাদিতে ঝুঁকে পড়েছে উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীরা। খেতে, বসতে, শুতে এমনকি রাত জেগে শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে অযথা মূল্যবান সময় নষ্ট করে নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক, স্বাস্থ্য ও চোখের ক্ষতি করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এন্ড্রয়েড মোবাইলফোনের নীল আলো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের ঘাটতির কারণ, যা চোখের পাশাপাশি মরণব্যাধি ব্রেস্ট এবং প্রস্টেট ক্যান্সার সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও এই নীল আলো মেলাটনিন হরমোন কমানোর সঙ্গে সঙ্গে রেটিনার কর্মক্ষমতাও কমিয়ে দেয়, ফলে কমে যায় দৃষ্টিশক্তিও। এতে করে ছাত্রছাত্রীদের কর্মক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি ক্রমশ লোপ পাচ্ছে।
শীর্ষ ১০ ফেসবুক ব্যবহারকারীর তালিকার প্রথম অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্রের নাম থাকলেও বাংলাদেশের নাম নেই তাতে। প্রায় ১০ হাজার ব্রিটিশ ছাত্রের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ৫ ঘণ্টা বা তার কম সময় ঘুমায়, তাদের হঠাত্ করে মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা সাধারণ মানুষের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। ঘুমের সঙ্গে হার্ট এবং ব্রেনের স্বাস্থ্যের সরাসরি যোগ রয়েছে। তাই ঘুম কম হলে বিষণ্নতা, মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, দিনের বেলা ঘুম আসা, আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি, সহজেই ক্লান্ত হয়ে যাওয়া বা রেগে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে। ফলে কিশোর বা তরুণ-তরুণীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ করছে। যা নিঃসন্দেহে যে কোনো বাবা-মায়ের জন্য রীতিমত উদ্বেগের বিষয়।
আর এভাবেই তরুণ প্রজন্মের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ নিজের সুন্দর ভবিষ্যত্ হত্যার পাশাপাশি নিজেকে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাছাড়া বিভিন্ন সাইটে অনৈতিক ভিডিও ক্লিপ, ফটো, অশ্লীল পেজ ইত্যাদিতে যুক্ত হয়ে উচ্ছন্নে যাচ্ছে। ম্যাসেজিং, চ্যাটিংয়ে রাত কাটিয়ে একে অপরের সঙ্গে বিভিন্ন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। ফেসবুক আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পরিবারকেই সবচেয়ে বেশি সচেতন ও কঠোর হতে হবে।
হবিগঞ্জ