সাভারে প্রভাবশালীদের মদতে বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, তালিকা হলেও গ্রেফতারে ভাটা

তুহিন খান

সাভারে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে উঠতি বয়সের কিশোররা। এলাকাভিত্তিক গড়ে উঠেছে গ্যাং কালচার। উত্ত্যক্ত করা থেকে শুরু করে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক বহন, মাদক ব্যবসা, অপহরণসহ এমনকি হত্যাকাণ্ডেও রয়েছে তাদের সম্পৃক্ততা। এলাকাভিত্তিক ছোট-বড় গ্যাং তৈরি করে দলগতভাবে এসব অপরাধ করে বেড়াচ্ছে এসব উঠতি সন্ত্রাসীরা। ৫০টির অধিক কিশোর অপরাধী গ্যাংসহ প্রায় তিন শতাধিক উচ্ছৃঙ্খল কিশোর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সাভার আশুলিয়া অঞ্চল। এদের উত্পাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। অল্প বয়সি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এদের অপরাধ সহজে আমলে নিতে চায় না।

পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনি, টিয়াবাড়ী, আনন্দপুর, রাজাবাড়ী, পালপাড়া, উত্তরপাড়া, ঘোষপাড়া, তালবাগ, ভাগলপুর, ইমান্দিপুর, রাজাশন, ঘাসমহল, সবুজবাগ, রেডিও কলোনি, ডগরমোড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন মহল্লায় গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। এসব দলে থাকে ১০-১২ জনের বখাটে কিশোর। সম্প্রতি সাভারে কিশোর গ্যাংয়ের বেশ কয়েকটি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা স্কুলছাত্রী নীলা রায় হত্যাকাণ্ড। ব্যাংক কলোনি এলাকার শাকিল-সাকিব গ্যাংয়ের সদস্য মিজানের প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয় নীলাকে। জানা গেছে, গ্যাংলিডার শাকিল ও সাকিব পিতার রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, মাদক, নারী নির্যাতন এমন কোনো ঘটনা নেই যা তাদের গ্যাংয়ের সদস্যরা করত না।

এছাড়া কয়েক দিন আগে আশুলিয়ায় বোনের বাসায় বেড়াতে আসা দুই কিশোরকে অপরহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। এ ঘটনায় এক যুবলীগ নেতাকে দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কোথাও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়, আবার কোথাও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সহযোগী অনুচর হিসেবে সক্রিয় থাকছে এসব উঠতি বয়সি মাস্তানরা। তাদের অনেকের কাছে থাকে ধারালো অস্ত্র থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক পিস্তল ও রিভলভার।

ইতিপূর্বে উপজেলার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও উঠতি মাস্তানদের তালিকা পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। তবে তাদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তেমন তত্পরতা চোখে পড়েনি। উপরন্ত কতিপয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে এসব উঠতি মাস্তানদের রয়েছে সুসম্পর্ক। ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. সাইদুর রহমান বলেন, পাড়া-মহল্লায় বখাটেদের উত্পাত বন্ধে ইতিমধ্যেই পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশ তত্পর রয়েছে।