মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নের ভগবানপুর এলাকা থেকে লাকী আক্তার নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে লাকীর স্বামী রতন মিয়া পলাতক রয়েছে। গতকাল সকাল ১০টার দিকে লাকীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।
লাকী আক্তার ঢাকার ধামরাই উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের কিশোরীনগর এলাকার আব্দুর রহমানের ভাগনি। এ বিষয়ে আব্দুর রহমান বলেন, বিয়ের কিছু দিন পরই সড়ক দুর্ঘটনায় তার বোন মারা যায়। পরে ভগ্নিপতি অনত্র বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। এরপর থেকে লাকীকে লালন-পালন করেন তিনি। লাকী নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় রতন মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়। রতন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে কর্মরত।
১০ দিনের ছুটিতে গত সোমবার বাড়িতে আসে রতন। বৃহস্পতিবার রাতে লাকী মারা যাওয়ার বিষয়টি ফোনে জানতে পেরে রতনদের বাড়ি যান তিনি। মধ্যরাতে সদর থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। লাকীকে মারধর করে মেরে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার সকালে রতনের মা ছবিয়া বেগম বলেন, ছেলের বউ লাকীকে নিয়ে সুখেই ছিলেন তিনি। লাকী স্থানীয় বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। তবে লাকী কী কারণে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সে বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। রতনের বাবা আব্দুল হালিম বলেন, লাকীর আত্মহত্যার বিষয়টি কল্পনাতীত। এসব বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি আকবর আলী খান বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তও চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বলা যাবে এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।