মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প করোনা আক্রান্ত হয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তবে তার নির্বাচনি প্রচার টিম ও হোয়াইট হাউজে কর্মরত প্রায় ৫০০ কর্মীর মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঘটেছে কি না তা নিয়ে সর্বত্রই আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, যারা গত এক সপ্তাহে প্রেসিডেন্টের সংস্পর্শে এসেছেন তাদের কোভিড টেস্ট হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া ট্রাম্পের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর আসার কয়েক ঘণ্টা পরেই করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। পেন্স এ যাত্রায় সংক্রমিত হননি বলে জানিয়েছেন তার একজন মুখপাত্র। টুইটারে এক বার্তায় ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের মুখপাত্র ডেভিন ও’মেলি বলেছেন, আজ সকালে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সেকেন্ড লেডির কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল নেগেটিভ এসেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের খুব কাছের উপদেষ্টাদের একজন হোপ হিকসের কোভিড ধরা পড়ার পরেই মার্কিন রাষ্ট্রপতি কোভিড পরীক্ষা করেন। সেখানেই ধরা পড়ে করোনা পজিটিভ। জানা গেছে, মিনেসোটা থেকে একটি সভা করে ফেরার সময় অসুস্থ বোধ করেন হিকস। তাকে প্লেনেই আইসোলেট করা হয়। পরে তার শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ে। সন্দেহ করা হচ্ছে হিকসের থেকেই ট্রাম্পের দেহে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারে কোভিড।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নির্বাচনকে সামনে রেখে গত মঙ্গলবার এক টিভি বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তার সঙ্গে এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে ওহাইওতে গিয়েছিলেন হোপ হিকস। ট্রাম্পের উপদেষ্টা হোপ হিকসকে এদিন মাস্ক পরা ছাড়া ক্লিভল্যান্ডে প্রেসিডেন্টের এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে নামতে দেখা গেছে। সেসময় তোলা একটি ছবিতে বিষয়টি চোখে পড়ে। এছাড়া গত বুধবার মিনেসোটায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি সমাবেশেও অংশ নেন হোপ হিকস। টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ?কোনো বিশ্রাম ছাড়াই কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন হোপ হিকস।
হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সতর্কতাস্বরূপ আমরা খুঁজে দেখেছি যে ডোনাল্ড ট্রাম্প, মেলানিয়া ট্রাম্প এবং হোপ হিকসের সংস্পর্শে সম্প্রতি কারা কারা গিয়েছিলেন। যদিও এখনো অন্য কারোর মধ্যে কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। তারপরও সবাইকে পরীক্ষা করাতে বলা হয়েছে। সংক্রমণ হোয়াইট হাউজের অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনি প্রচারণাকালে প্রেসিডেন্টের কাছে বা নির্দিষ্ট দূরত্বসীমার মধ্যে যারা অবস্থান করেছিলেন, তাদেরও খুঁজে বের করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত যে, হোয়াইট হাউজে বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৪৬৮ জন। কংগ্রেসে উত্থাপিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী রয়েছেন ৬৮ জন, সহকারী ২২ জন এবং উপসহকারী রয়েছেন ২৪ জন।
এদিকে ইতিপূর্বে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের প্রেস সচিব কেটি মিলার করোনা টেস্টে পজিটিভ হওয়ার পর তার সংস্পর্শে যাওয়া ছয় জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুই জন মাইক পেন্সের সঙ্গে বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। হোয়াইট হাউজে কর্মরতদের কোভিড টেস্ট বাধ্যতামূলক। ট্রাম্প সব সময় মাস্ক পরতে অস্বীকার করলেও হোয়াইট হাউজের কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।