সংকট সমাধান না হওয়ার জন্য নতজানু পররাষ্ট্রনীতি দায়ী ----------- ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান না হওয়ার পেছনে সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতি দায়ী। শুক্রবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার সমস্যা সমাধানে যে ধরনের সমন্বিত বহুমুখী তত্পরতা নেওয়া দরকার ছিল, সরকার তা নিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই সমস্যার সমাধানে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় সব স্তরেই আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতির সুযোগে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান আজকে কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। সরকার  বন্ধুদেশগুলোকেও পক্ষে নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়েছে।’

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রোহিঙ্গা গণহত্যা ও জাতিগত নিপীড়ন-নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার তিন বছর পূর্তির প্রাক্কালে মিয়ানমারের বাংলাদেশ সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ সংকট সমাধানে বাংলাদেশের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিক ফল। সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে অগ্রাধিকারের বিষয় হওয়া উচিত ছিল রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান। সরকারের সামগ্রিক কার্যকলাপ বিবেচনায় এ ধরনের অগ্রাধিকার সর্বত্রই অনুপস্থিত। এর বড় প্রমাণ হচ্ছে, এখন পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রী কোনও বিশ্বনেতার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেননি, বিশ্ব সফর করেননি এবং জাতিসংঘে গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি তুলে ধরেননি। ফলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আমরা বৈশ্বিক,  আঞ্চলিক ও দ্বি-পাক্ষিক সকল স্তরেই ব্যর্থ হচ্ছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে গত ১১ সেপ্টেম্বর অন্তত তিনটি পয়েন্টে মিয়ানমার সৈন্যদের উপস্থিতি দেখা গেছে। বিনা উসকানিতে এ ধরনের সমাবেশ শুধু যে মিয়ানমারের নৃ-তাত্ত্বিক রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর জন্য আতঙ্কের বিষয় তা নয়, একই সাথে এটা চলমান আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারের প্রতি মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্র কর্তৃক আইন অবমাননার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ।

তিনি আরো বলেন,তথাকথিত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সোনালী অধ্যায় চিত্রিত করতে যখন বর্তমান সরকারের অবৈধ মন্ত্রীবর্গ নিয়ত ব্যতিব্যস্ত, এরকম সময়েও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকারের নেওয়া নিপীড়নমূলক পদক্ষেপকে ‘সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধ’ বলে সমর্থন করে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের সমগ্র জনগণকে গভীরভাবে হতাশ করেছিল।