মির্জাপুরে বন্যায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত 

মির্জাপুরে বন্যায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে লক্ষাধিক পরিবার। বংশাই-লৌহজং নদীতে তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এক দিকে নদী ভাঙ্গন ও অপরদিকে বন্যার পানি নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগের মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। হুমকির মুখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট বাজার, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও ফসলি জমি।

আজ শনিবার জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী রুবেল ও  ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রউফ জানান, দ্বিতীয় ধাপে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে লক্ষাধিক পরিবার। বংশাই ও লৌহজং নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে বংশাই নদীর ফতেপুর, হিলড়া আদাবাড়ি, থলপাড়া, বৈন্যাতলী, চাকলেশ্বর, গোড়াইল, গাড়াইল, পুষ্টকামুরী পুর্বপাড়া, বাওয়ার কুমারজানি, ত্রিমোহন, বান্দরমারা, যুগিরকোপা, রশিদ দেওহাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, বরাটি, দেওহাটা, কোর্ট বহুরিয়া, বহুরিয়া, কামারপাড়া, নাগরপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকা নদী ভাঙ্গনে কয়েক শতাধিক পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখনও কোন ত্রাণ সহায়তা পায়নি। বন্যার পানি নতুন করে বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় আঞ্চলিক রাস্তা ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্রিজ, কালভার্ট ও রাস্তাঘাট।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কদিমধল্যা-বাসাইল সড়ক, কদিমধল্যা-বরাটি রাস্তা পাকুল্যা-লাউহাটি রাস্তা, কাটরা-উফুলকী রাস্তা মির্জাপুর-ওয়ার্শি-বালিয়া , মির্জাপুর-কামারপাড়া-ভাওড়া, দেওহাটা-বহুরিয়া, কুরনী-ফতেপুর, গোড়াই-সখীপুর রাস্তাসহ শতাধিক আঞ্চলিক রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানিয়েছেন- এখন পর্যন্ত তারা কোন ত্রাণ সহায়তা পাননি। এদিকে ভাঙ্গন ও নদীতে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বংশাই নদীর থলপাড়া ব্রিজ, ত্রিমোহন বীর মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন ব্রিজ, লতিফপুর ব্রিজ, লৌহজং নদীর গুনটিয়া ব্রিজ, বরাটি বাবু দুঃখীরাম রাজবংশী ব্রিজ, পুষ্টকামুরী ব্রিজ, পাহাড়পুর ব্রিজ এবং ওয়ার্শি ব্রিজ হুমকির মুখে বলে জানা গেছে।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান এবং টাঙ্গাইলের সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তা ও ব্রিজের প্রকল্প তৈরী করে বরাদ্ধ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্ধ এলে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার দ্রুত সংস্কার করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক  এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, নদী ভাঙ্গন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। বরাদ্ধ পাওয়া গেলে সহায়তা প্রদান করা হবে। 

ইত্তেফাক/আরকেজি