বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেছেন, বাপেক্সের এমডিরা (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) পদে থাকা অবস্থায় দেশে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সম্ভাবনা দেখতে পান না। কিন্তু অবসরে যাওয়ার পর তারা ফাইলপত্র নিয়ে এসে বলেন- এখানে-ওখানে, বিভিন্ন স্থানে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু পদে থাকা অবস্থায় তারা চুপ থাকেন। কথা বলেন না। বাপেক্স থেকে অবসরে যাওয়ার পর ‘বাঘের বাচ্চা’ হয়ে যান। অনেক এমডির কাছ থেকে কোনো পরিকল্পনা আসে না। কোনো সম্ভাবনা নাই বলে মন্তব্য করেন। বাপেক্সে থাকাকালীন কোনো পরিবর্তনে তা উৎসাহী হন না, কাজও করেন না। অবসরের পর তারা সম্ভাবনা বের করেন। গত সাত বছরে এটি দেখলাম। কিন্তু আমাদের গ্যাস-জ্বালানি দরকার। সে প্রয়োজন মেটাতে যা করা দরকার সরকার তা-ই করতে চায়।
শনিবার এক অনলাইন সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। পাক্ষিক পত্রিকা এনার্জি এন্ড পাওয়ার ‘বাপেক্সের অনুসন্ধান ও ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে। এ সময় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দেশের একমাত্র সরকারি সংস্থা বাপেক্সের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
নসরুল হামিদ বলেছেন, বাপেক্সের উপর নির্ভর করা না গেলে উপায় কী থাকবে? সরকার গ্যাস চায়। খনিগুলো থেকে গ্যাস উত্তোলন করতে চায়। বাপেক্স যে জায়গায় ব্যর্থ হচ্ছে সে জায়গায় আমরা বিকল্প উপায়ে ভালো করতে চাই।
তিনি বলেন, বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে। আন্তর্জাতিক মানে গ্যাস অনুসন্ধান, উত্তোলন বা উৎপাদন কোম্পানি হিসেবে দেখতে চাই। বাপেক্সের সাফল্য ভালই। বিদেশি কোম্পানির সাথে বাপেক্স সমান্তরালভাবে কাজ করলে দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস আরো বাড়বে। বাপেক্সের এখন যারা আছেন তাদের মধ্যে আরও দায়িত্বশীলতা বাড়ানো দরকার। সরকার ধীরে ধীরে ভর্তুকি থেকে বেরোতে চায়।
সম্প্রতি ভোলায় গ্যাস উৎপাদনে রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রমকে কাজ দেয়ার বিষয়ে সেমিনারে অনেকে প্রশ্ন তোলেন। তারা বলেন, এর মাধ্যমে বাপেক্সকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাজপ্রম যা তা কোম্পানি না। পৃথিবীর গ্যাস উত্তোলনকারী শীর্ষ কোম্পানিগুলোর মধ্যে এটি একটি। গ্যাজপ্রম যখন বিদেশে কাজ করে তখন তারা তৃতীয় কোম্পানির মাধ্যমে করে। কেন না সরাসরি কাজ করা রাশিয়ার পেমেন্ট পদ্ধতি অনুমোদন দেয় না। তাই তারা তাদের অংশীদার কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কাজগুলো করে। গ্যাজপ্রমকে কাজ করতে দিলে বাপেক্স ক্ষতিগ্রস্ত হবে বিষয়টি এমন নয়। শেভরনসহ বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি কাজ করছে।
ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুর্তজা আহমদ ফারুক। এনার্জি এন্ড পাওয়ার পত্রিকার সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ম তামিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ খন্দকার সালেক সুফি, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী ও পেট্টোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান মোকতাদির আলী।
ইত্তেফাক/ইউবি