যমুনা পাড়ের সংস্কৃতির টিকে থাকার লড়াই

বেহুলা ও লখিন্দর লোকপালা

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

যমুনা পাড়ের জনপদে আজও টিকে আছে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার বেহুলা-লখিন্দরের লোকপালা। উজানে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট থেকে ভাটিতে পদ্মা-যমুনার সঙ্গমস্থল গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত জনমানসে টিকে আছে এ লোককথা। টাঙ্গাইল জেলার যমুনা অববাহিকায় ২৫টি বেহুলা লাচারি দল রয়েছে। এর মধ্যে সুনাম কুড়িয়েছে গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া বেহুলা দল।

জানা যায়, পঞ্চাশের দশকে দলটি প্রতিষ্ঠা করেন হেমনগর জমিদারের শেষ নায়েব গণেশ রক্ষিত। গানের নতুন সুরারোপে, ভিন্ন মাত্রার নৃত্য ও বাদ্যে, সুখপ্রিয় পয়ার বর্ণনায়, ব্যতিক্রম উপস্থাপনায় এবং শৈল্পিক আঙ্গিক সৌষ্ঠবে ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়া পেয়েছে দলের উপস্থানায়। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ডিজিটাল বেহুলা। দলের ম্যানেজার রিপন হোসেন জানান, টাঙ্গাইল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা বেহুলা মঞ্চস্থ করেন। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে দল টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।

লখিন্দর চরিত্রে অভিনেতা মিজান জানান, বেহুলা গানের যে আদিসুর সেটির অঞ্চলভেদে রয়েছে বহুমাত্রিকতা। তারা প্রাচীন কথন ও সুরকে ঘষেমেজে সংস্কার করেছেন। রসাত্মক ও বিরহের কাহিনি অক্ষুণ্ন রেখে পয়ার ও ছন্দে অভিনবত্ব এনেছেন। দলের অভিনেতা খোকন জানান, দলের ২৫ শিল্পীর সবাই দরিদ্র। নানা টানাপোড়েন সত্ত্বেও বংশ পরম্পরায় এ পালা সংস্কৃতিকে ধরে রেখেছেন। দল টেকাতে অনেক শ্রম, অর্থ ও সময় ব্যয় হয়। কিন্তু কোনো সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছেন না। দলের পৃষ্ঠপোষক এবং স্কুলশিক্ষক আঞ্জু আনোয়ারা ময়না জানান, বেহুলা বাংলার লোকসংস্কৃতি, লোকপালা এবং লোকগীতির ভান্ডার। প্রতি বছর শ্রাবণ সংক্রান্তিতে এ দল গাঙ্গে ভেলা ভাসায়। এরপর চাঁদ সওদাগরের সপ্তডিঙ্গার আদলে নৌকা সাজিয়ে শাওনি ডালাকে মধ্যমণি করে নেচে-গেয়ে যমুনার পাড়কে মাতিয়ে তোলেন তারা। হাজারো মানুষ অনুষ্ঠানে জড়ো হন।