চাকরিতে নিয়োগে বয়সসীমা

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলোতে যথাসময়ে নিয়োগের ব্যবস্থা না করায়, চাকরিপ্রার্থীদের সরকার নির্ধারিত ৩০ বছরের সময়সীমা পার হয়ে যায়। সম্প্রতি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ১২.০৬.২০১৮ তারিখে যাদের বয়স ৩৫ বা তার কম, তারাই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য যোগ্য। ইতিপূর্বে বেসরকারি স্কুল-কলেজে চাকরিতে প্রবেশের কোনো বয়সসীমা ছিল না, ছিল না নিবন্ধন পরীক্ষা। সেসময়ে কি কোনো যোগ্য লোক নিয়োগ পায়নি? তাহলে আজ কেন শিক্ষক নিবন্ধনের ব্যবস্থা? শিক্ষক নিবন্ধন পাশ করেও হাজার হাজার বেকার চাকরি পাচ্ছে না। আবার নতুন নিয়ম বয়সের সীমাবদ্ধতা, যা সত্যিই দুঃখজনক। সব চাকরির ক্ষেত্রে এভাবে বয়সের সীমা নির্ধারণ করে দিলে দেশে বেকারের সংখ্যা বাড়বে বৈ কমবে না। বিগত দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেশনজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা না হওয়ায় অনেক চাকরিপ্রার্থীর বয়স ৩০-এর  বেশি হয়ে যায়। পড়াশোনা শেষ করে চাকরি না পেয়ে পরিবারের বোঝা হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে অনেক যুবক। বিপদগামী হয়। কিছু লোক এই বিপদগামী বেকারদের নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগাচ্ছে। 

উন্নত অনেক দেশে সরকারি ও বেসরকারি চাকরির কোনো বয়সসীমা নেই। যেখানে আমাদের দেশে অনেক বড় বড় অফিসের বড় বড় কর্মকর্তার অবসরের সময় আসার পর চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে, সেখানে লাখ লাখ বেকারের চাকরির আবেদনের বয়সসীমা কেন বাড়ানো হচ্ছে না? বেকারত্ব দূর করার লক্ষ্যে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি চাকরির আবেদন যেন সবাই করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা উচিত। ‘যোগ্যতা যার চাকরি তার’—এই স্লোগান বেকারদের। যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি হোক।

মো. সোয়েব মেজবাহউদ্দিন,

মোহাম্মদপুর, ঢাকা