n দুর্নীতির কথা কেউ তোলেনি n শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো সভা
সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
ধারণা করা হয়েছিল কাজী সালাহউদ্দিনের বিপক্ষে যারা বছর জুড়ে প্রতিবাদী কণ্ঠে সোচ্চার ছিলেন তারা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এর কংগ্রেসে গিয়ে ঝড় তুলবেন। বাস্তবে গতকাল শনিবার সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত এই কংগ্রেস তথা বার্ষিক সাধারণ সভায় সব এজেন্ডা শান্তিপূর্ণ ভাবেই অনুমোদন হয়েছে।
কাউন্সিলররা খুব একটা বের হননি সভা হতে। তারপরও দুই একজন যারা এসেছিলেন তাদের কণ্ঠে খুব বেশি কিছু শোনা যায়নি। মাঝে একঝলক দেখা গিয়েছিল বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনকে। কিন্তু তিনি উঁকি দিয়েই আবার ভেতরে ফিরে যান। এর মধ্যে কাওরান বাজার প্রগতি সংঘের সভাপতি মোশারফ হোসেন বেরিয়ে এলে সংবাদ মাধ্যম তাকে ঘিরে ধরে। এই কাউন্সিলর বলেন, ‘সর্বকালের সেরা এজিএম হয়েছে। সবকিছু ভালোভাবে পাশ হয়েছে।’
বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান বললেন, ‘আমি এবার নিয়ে দুটি সাধারণ সভায় অংশগ্রহণ করলাম। গত বছরের তুলনায় এবছরের এজিএমটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ছিল এবং ডেলিগেটদের মধ্যে একটা বাড়তি উত্সাহ উদ্দীপনা ছিল। হয়তো নির্বাচন উপলক্ষ্যে সবার মধ্যে আনন্দ-উত্সব ভাব ছিল। খুব উত্সব মুখর পরিবেশে এজিএম হয়েছে। কোনো ধরনের হট্টগোল ছাড়াই এজিএম শেষ হয়েছে। কারো কোনো আপত্তি ছিল না। গত বছরের অডিট রিপোর্ট এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদিত হয়েছে। ১৩৯ জনের মধ্যে ১৩৫ কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।’
বেলা ১১টায় বার্ষিক সাধারণ সভা শুরু হয় কাজী সালাহউদ্দিনের সভাপতিতে। দুই ঘণ্টায় শেষ হয় সভা। বাফুফেতে দুর্নীতি হয়েছে, সারা বছর এমনটা বলা হলেও কোনো সদস্য এ নিয়ে কথা বলেননি বলে জানা গেছে। তৃতীয় বিভাগে কাউন্সিলর সংখ্যা বাড়াতে অনুরোধ করা হয়েছে। বাফুফের সদস্য হারুনুর রশিদ সভা শেষে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘এমন সুন্দর এজিএম কখনোই দেখিনি। এজিএমে এটা হওয়াই স্বাভাবিক। কেউ কেউ আগামী দিনের ফুটবল উন্নয়নে পরামর্শ দিয়েছেন। একজন কাউন্সিলর আয়-ব্যয়ের একটা ত্রুটি উল্লেখ করেন। সেটি সংশোধন করেই সবকিছু অনুমোদন হয়েছে।’
সদস্যপ্রার্থী আরিফ হোসেন মুন বলেন,‘কোন বিষয়ে বিতর্ক হয়নি। ভোটের দিন আমরা কেউ এজিএমে কোন বিষয়ে আপত্তি তুলবো না, এটা আগে থেকেই আলোচনা করা ছিল।’
এর আগে সকাল থেকে সোনারগাঁও হোটেলের লবিতে ফুটবলসংশ্লিষ্টদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। কিছু প্রার্থীর অনুসারীদের ভিড় সামাল দিতে গিয়ে হোটেল কৃর্তপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়। প্রবেশ মুখে নিরাপত্তা কর্মীরা স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে পারেনি ফুটবল সংশ্লিষ্টদের ভিড়ে।