বংশালে বাড়ির মালিকানা নিয়ে ভাইকে হত্যা করল বোন

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জের ধরে পুরান ঢাকার বংশালে ভাইকে হত্যা করল পালিত বোন ও তার পরিবার। নিহতের নাম সাঈদ (৪৮)। গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তিনি মারা যান। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বংশালের আবুল হাসনাত সড়কে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বোন, বোনজামাইসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিহতের বড় ভাই লতিফুর রহমান বলেন, ‘বংশালের আবুল হাসনাত রোডে আমার বাবা আব্দুর রহমানের নামে এক কাঠার একটি প্লট রয়েছে। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে স্বাভাবিকভাবে সন্তানেরা     মালিক হয়। হাসিনা বেগম টেকি নামে বাবার এক পালিত কন্যা ছিল। বোন তার পরিবার নিয়ে ঐ বাসায় থাকে। ভাই সাঈদ অবিবাহিত। সেও একই বাসায় থাকত। সে বাসায় মোবাইল মেরামতের কাজ করত। বাসায় বিদ্যুতের বিল অনেক টাকা বাকি পড়ে যায়, কারো পক্ষেই টাকা পরিশোধ করার অবস্থা নেই। তাই সবাই মিলে জমি ডেভেলপার কোম্পানিকে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বোন মোটা অঙ্কের ঢাকা দাবি করে। এসব নিয়ে ঝগড়াঝাটি হচ্ছিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বোন হাসিনা, তার স্বামী মামুন, ছেলে ও তাদের কয়েক জন বন্ধু মিলে ভাই সাঈদকে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বেধড়ক মারধর করে। স্ক্রুড্রাইভার শরীরে ডুকিয়ে দেয়। তার চিত্কারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল সে মারা যায়।’

বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন ফকির জানান, পালিত বোন জমিজমা দাবি করেছিল। এ নিয়ে বিরোধ ছিল। বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ঐ মামলায় হাসিনা, মামুন, তাদের ছেলে আহাদ, আহাদের বন্ধু রনিসহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গতকালই তাদের আদালতে পাঠানো হলে হাসিনা, মামুন, আহাদ ও রনি খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।