কোভিড-১৯ মহামারিতে দেশের অধিকাংশ রোগী ঘরে বসে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন বক্তারা। সম্প্র্রতি ‘মানুষের কাছে মানুষের পাশে, কোভিড-১৯ টেলিহেলথ সেন্টার’বিষয়ক ফেসবুক লাইভে বক্তারা এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এটুআই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বেসিস এবং স্বাস্থ্য বাতায়ন এই লাইভ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ওয়েবিনারে জানানো হয়, স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ ও ৩৩৩ ছাড়াও কোভিড-১৯ টেলিহেলথ সেন্টারের ০৯৬৬৬৭৭৭২২২ নম্বরে ফোন করে সার্বক্ষণিক সেবা পেয়েছে রোগীরা। গত তিন মাসে ১ লাখ ৫১ হাজার ১৯৩ জন রোগীকে অনলাইনে টেলি মেডিসিন সেবা দেওয়া হয়েছে। ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯১১ জন রোগীকে ডাক্তার ফলোআপ করেছেন। যেসব রোগী নিজে কল করে সেবা নিয়েছে তার সংখ্যা ৮৪ হাজার ২৬৩ জন।
এ সময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম কোভিড-১৯ টেলিহেলথ সেন্টার সৃষ্টির পরিকল্পনা নিয়ে জানান, কোভিড-১৯-এর শুরু থেকেই আইসিটির ডিভিশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে প্রাধান্য দিয়েই এই টেলিমেডিসিন ব্যবস্থাটি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে দেশের বাইরেও এই সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
লাইভে উপস্থিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, যেহেতু বাইরে গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ, তাই রোগীরা এই সেন্টারটির জন্য বাসায় বসে চিকিত্সা নিতে পারছেন এবং হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও কমে গেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এটুআই, আইসিটি ডিভিশনের এর চিফ ই-গভর্ন্যান্স স্ট্র্যাটিজিস্ট ও চিফ কো-অর্ডিনেটর মা টেলিহেলথ সেন্টার ও কোভিড-১৯ টেলিহেলথ সেন্টার ফরহাদ জাহিদ শেখ জানান, গত ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া এই ল্যাবে দুটি শিফটে, ইন বাউন্ড এবং আউট বাউন্ড ব্যবস্থায় সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবার যুগ্মসচিব উম্মে সালমা তানজিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস এবং ই-হেলথের লাইন পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান, সিনেসিস হেলথ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মা টেলিহেলথ সেন্টারের কো-অর্ডিনেটর নবনীতা চক্রবর্তী।